ছোট ঋণের ক্ষেত্রে সোনা (Gold Loan) বা রুপো বন্ধক রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি ব্যাঙ্কিং মহলে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। এবার সেই জল্পনায় ইতি টানল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)।

শেষ আপডেট: 14 July 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট ঋণের ক্ষেত্রে সোনা (Gold Loan) বা রুপো বন্ধক রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি ব্যাঙ্কিং মহলে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। এবার সেই জল্পনায় ইতি টানল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল— কৃষি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে(MSME) ২ লক্ষ টাকার মধ্যে যেসব ঋণ কোল্যাটারাল-মুক্ত বলে ধরা হয়, তাতে গ্রাহক ইচ্ছা করলে সোনা বা রুপো বন্ধক দিতে পারেন। তবে একান্তই স্বেচ্ছায়। কোনওরকম চাপের বশে নয়। অর্থাৎ ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সোনা বন্ধক দিতে বাধ্য করা যাবে না।
সোনার ঋণের সুদের হার (Gold Loan interest rate) সাধারণত বার্ষিক ৯.৫০% থেকে ২৪% এর মধ্যে থাকে, বাজাজ ফিনসার্ভের একটা রিপোর্টে বলা হচ্ছে। তবে এই হার নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। যেমন—কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই ঋণ নেওয়া হচ্ছে, ঋণের পরিমাণ কত, লোন-টু-ভ্যালু (LTV) অনুপাত কী, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট রেটিং এবং নির্বাচিত স্কিম।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আরবিআই কৃষকদের কোল্যাটারাল-মুক্ত ঋণের সীমা ১.৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করে। উদ্দেশ্য ছিল, চাষাবাদ, দুগ্ধ, হাঁস-মুরগি ও মৎস্যচাষের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে কৃষকরা সহজে ঋণ নিতে পারেন, তা যেন বাধা না পায়।
এই নতুন সীমা কার্যকর হয় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। পরে জুন মাসে নিয়মে আরও কিছু হালফিল আপডেট আনা হয়। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, এই সীমার মধ্যে থাকলেও সোনা বা রুপো বন্ধক নেওয়া হলে তা কি কোল্যাটারাল-মুক্ত ঋণের নিয়ম লঙ্ঘন করবে?
সেই প্রশ্নের জবাবে আরবিআই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কথায়, “যদি কোনও ঋণগ্রহীতা নিজের ইচ্ছায় সোনা বা রুপো বন্ধক দেন, তবে তাকে কোল্যাটারাল-মুক্ত ঋণের বিধিভঙ্গ বলে ধরা হবে না। তবে, এই বন্ধক দেওয়াটা একান্তই স্বেচ্ছায় হতে হবে। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে কোনওরকম চাপ বা বাধ্যবাধকতা রাখা চলবে না।”
এই ব্যাখ্যায় এখন ব্যাঙ্কগুলির দিকনির্দেশ আরও স্পষ্ট হল। স্বচ্ছ ও সহজলভ্য ঋণের সুযোগ বাড়ল কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের জন্য। তবে নজর থাকবে, যেন ‘স্বেচ্ছায় বন্ধক’ দেওয়ার সুযোগকে জোরপূর্বক বা বাধ্যবাধকতায় পরিণত না করে কেউ।