ভিম অ্যাপে নতুন বায়োমেট্রিক ফিচার। এবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দিয়ে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই পেমেন্ট করা যাবে পিন ছাড়াই।

শেষ আপডেট: 24 March 2026 19:01
লাগবে না আর পিন (PIN)। তবে শর্ত সাপেক্ষে।
মোবাইলে লেনদেনের চাবিকাঠি আরও সহজ করল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশনের (NPCI) শাখা সংস্থা এনপিসিআই ভিম সার্ভিসেস লিমিটেড (NBSL)। তাদের ইউপিআই পেমেন্টস অ্যাপ, ভিম (BHIM)-এর মাধ্যমে অল্প টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহক চাইলে আর পিন ব্যবহার না-ও করতে পারেন। তার বদলে তাঁর বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন আঙুলের ছাপ বা মুখের ছবি ব্যবহার করে লেনদেন সম্পূর্ণ করতে পারবেন। তবে এ ভাবে সর্বোচ্চ ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা লেনদেন করা যাবে।
আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড, উভয় অপারেটিং ব্যবস্থার ফোনেই এই সুবিধা চালু হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে এনবিএসএল। প্রসঙ্গত, যে কোনও ইউপিআই অ্যাপ খোলার পিন আলাদা হয়। যদিও সে ক্ষেত্রেও একই বায়োমেট্রিক তথ্য নির্ভর ব্যবস্থা চালু হয়েছে বেশ কিছু দিন হল।
কাকে টাকা পাঠাবেন, কত টাকা পাঠাবেন, সে সব ঠিক করার পরে প্রতিটি লেনদেনের অঙ্ক যাচাই করতে (Biometric authentication) হয় গ্রাহককে। যাতে তাঁর অজান্তে কেউ সেই অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারেন বা কোনও জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে, সে জন্য লেনদেন যাচাই করার জন্যও আলাদা পিন ঠিক করতে হয় গ্রাহককে।
এ বার থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত যে কোনও লেনদেনের ক্ষেত্রে সেই পিন দেওয়ার আর প্রয়োজন পড়বে না। গ্রাহক তাঁর স্মার্টফোন খোলার জন্য যে আঙুল ছাপের বায়োমেট্রিক তথ্য ফোনে ভরেছেন, সেই একই আঙুল ছাপ দিয়েই ওই লেনদেনটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন তিনি। আঙুল ছাপের বদলে তিনি তাঁর মুখের ছবি দিয়েও লেনদেনের অনুমোদন করতে পারবেন। তবে লেনদেনের অঙ্ক ৫০০০ টাকার বেশি হলে এখনও পিন দিয়েই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
এনবিএসএল জানাচ্ছে, গ্রাহক অন্য ব্যক্তিকে, পরিবারের অন্য সদস্যদের কিংবা দোকান বা যে কোনও ধরনের বিপণিতে যেখানে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন স্বীকৃত সেখানেও, অর্থাৎ ভিমের যে কোনও লেনদেনের ক্ষেত্রেই ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পিন ছাড়াই নতুন ব্যবস্থায় টাকা পাঠাতে পারবেন।
এনবিএসএল-এর এমডি তথা সিইও ললিতা নটরাজ বলছেন, “সহজ, সুরক্ষিত ও সকলের কাছে লেনদেন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ভিম পেমেন্টস অ্যাপের লক্ষ্য। বায়োমেট্রিক তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেন যাচাই করার মাধ্যমেই তা করছি। এর ফলে পিন-এর উপর নির্ভরতা কমিয়ে গ্রাহকের ওই তথ্যের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি আসলে নিরবচ্ছিন্ন এবং ভরসাযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার পক্ষে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া।”
বস্তুত, তাঁদের দাবি, এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের নিজস্ব বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি ব্যবহার করায় সুরক্ষা আরও বাড়বে। তা ছাড়া পিন অন্যকে বলার প্রবণতাও কমবে। এবং অনেক সময়ে অনেকেই ভুল পিন লেখায় লেনদেনে অহেতুক দেরি হয়। বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করলে সেই সব সমস্যাও এড়ানো সহজ হবে।
প্রসঙ্গত, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে দশ বছর আগে ইউপিআই (UPI) পরিকাঠামো চালু করেছিল এনপিসিআই। এটি আসলে একটি মোবাইল-ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। গোড়ায় এনপিসিআই তাদের নিজস্ব ইউপিআই-অ্যাপ, ভিম (Bharat Interface For Money) পরিষেবা চালু করে। পরে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং গুগল-পে, অ্যামাজন-পে, ফোন-পে-সহ এতাধিক ইউপিআই অ্যাপ চালু হয়।
গোড়ায় এই ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে মোদী সরকারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হলেও পরে কার্যত এই নানা ইউপিআই অ্যাপ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্ড, বিশেষ করে ক্রেডিট ব্যবস্থাকে। ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মুঠোফোনের মাধ্যমেই এই লেনদেন ব্যবস্থা।