ঠেলাগাড়ি ঠেলতে ঠেলতে জীবনের ভার টানতে থাকা এই মানুষটি আজ কোটি টাকার মালিক।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই বলে ভাগ্যের খেল! কার, কোথায় যে কীভাবে ভাগ্য বাঁধা হয়ে আছে - আগে থেকে কে বলতে পারে! পাঞ্জাবে গিয়ে এক বন্ধুর থেকে টাকা ধার করে নিছকই ইচ্ছাবশত একটা লটারির টিকিট (lottery ticket) কিনেছিলেন অমিত। সেই টিকিট-ই এনে দিল প্রথম পুরস্কার (Rajasthan vegetable seller lottery 11 crore), যার মূল্য ১১ কোটি টাকা। ঠেলাগাড়ি ঠেলতে ঠেলতে জীবনের ভার টানতে থাকা এই মানুষটি আজ কোটি টাকার মালিক।
রাতারাতি এক সবজি বিক্রেতার জীবন একদিনে বদলে গেল, সম্পূর্ণভাবে (Rajasthan vegetable seller lottery)। রাজস্থানের কোটপুতলির বাসিন্দা অমিত সেহরা ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে জিতে নিয়েছেন পাঞ্জাব স্টেট লটারির ‘দীপাবলি বাম্পার ২০২৫’-এর প্রথম পুরস্কার, যার মূল্য ১১ কোটি টাকা।
অমিত সেহরার জীবন চলছিল রাস্তায় ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করে। কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি পাঞ্জাবের ভাতিন্ডায় গিয়েছিলেন। সেখানেই বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়ে স্থানীয় দোকান থেকে কিনেছিলেন একটি লটারির টিকিট। তখনও জানতেন না, সেই সামান্য টিকিটই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় লিখে দেবে।
৩১ অক্টোবর ঘোষণা হয় ফলাফল, আর তাতেই জানা যায়, অমিতের টিকিটই পেয়েছে প্রথম পুরস্কার।
লটারির ফল ঘোষণার পর অমিত ভেঙে পড়েন, অবশ্যই তা ছিল খুশির কান্না। তিনি বলেন, “এটা ঈশ্বরের আশীর্বাদ, ‘ছাপ্পর ফাড়কে’ তিনি আমাকে ভরিয়ে দিয়েছেন। আমি ভাবতেও পারিনি এমন কিছু আমার জীবনে ঘটবে।”
কিন্তু নতুন জীবন শুরু করার আগে সামনে এখনও কিছুটা দরকারি কাজ বাকি। তাঁর কথায়, “আমার কাছে এইটুকু টাকাও নেই যে চণ্ডীগড়ে গিয়ে পুরস্কার দাবি করার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারি।”
পাই পাই পয়সার জীবনে এক ধাক্কায় এত টাকা, কী করবেন কিছু ভেবেছেন কি অমিত? তাঁর কথায়, পুরস্কারের টাকায় তিনি প্রথমেই তাঁর দুই ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য বিনিয়োগ করবেন। শিক্ষা ও সুরক্ষার দিকেই থাকবে তাঁর সিংহভাগ খরচের হিসাব।
এছাড়া তিনি যে বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে টিকিটটি কিনেছিলেন, তাঁকে ভোলেন কী করে! অমিতের কথা, “আমি আমার বন্ধু মুকেশকেও এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা ভেবেছি। ও-ই আমাকে টিকিট কেনার টাকা দিয়েছিল। আজ আমি যা পেয়েছি, তার একটা অংশ ওরও প্রাপ্য।”
অমিত সেহরার গল্প শুধুই ভাগ্যের নয়, শোনায় এক সাধারণ মানুষের অদম্য বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, সবথেকে বড় কথা নিভতে না চাওয়া আশার গল্পও। তাঁর চোখে এখন একটাই স্বপ্ন, সন্তানদের ভাল ভবিষ্যৎ, আর জীবনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।