আজ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দেশজুড়ে বেড়েছে সোনার দাম। ২৪ ও ২২ ক্যারেট সোনার আজকের দর, শহরভিত্তিক দাম ও বাজার বিশ্লেষণ পড়ুন।

ছবি AI
শেষ আপডেট: 16 December 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ দেশজুড়ে সোনার দামে (Gold Price Record)) রেকর্ড বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে বাণিজ্য নগরী মুম্বই, শিল্প শহর কলকাতা এবং দক্ষিণের চেন্নাই—ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই আজ সোনার বাজার চড়া (Gold Price Hike)। গতকালের তুলনায় আজ আরও বেড়েছে হলুদ ধাতুর দাম। উৎসবের মরসুম ও বিয়ের মরসুমের ঠিক আগে এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষকেই ভাবিয়ে তুলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়স্থল হিসেবে সোনা বরাবরই জনপ্রিয়। তবে এই আকস্মিক দামবৃদ্ধি আগামী দিনে বাজারের গতিপথ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
আজকের সোনার দর: দেশজুড়ে চড়া বাজার
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ভারতীয় বাজারে সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দেশজুড়ে সোনা কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে রেকর্ড অঙ্কের টাকা। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম এবং আসন্ন বিয়ের মরসুমের আগে এই দামবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী—সকলের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় কারণই সোনার এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বিভিন্ন শহরে সোনার সর্বশেষ দাম
আজ, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতের প্রধান শহরগুলিতে ২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম নিম্নরূপ—
| শহর | ২৪ ক্যারেট সোনা (১০ গ্রাম) | ২২ ক্যারেট সোনা (১০ গ্রাম) |
|---|---|---|
| কলকাতা | ₹1,43,789 | ₹1,32,468 |
| নয়াদিল্লি | ₹1,46,054 | ₹1,34,554 |
| মুম্বাই | ₹1,35,390 | ₹1,24,110 |
| চেন্নাই | ₹1,34,290 (আনুমানিক) | ₹1,22,930 (আনুমানিক) |
সর্বভারতীয় স্তরে আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ₹13,538 এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ₹12,410।
সোনার দাম বাড়ার পেছনের কারণ
সোনার দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ। এই কারণগুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের প্রভাব
বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের পথ খোঁজেন এবং সোনা তখন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হলে বিভিন্ন দেশ তাদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়ায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দাম—দু’টোই বাড়িয়ে দেয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের আর্থিক রিজার্ভ মজবুত করতে বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) চলতি বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করেছে। এই ধারাবাহিক কেনাকাটা আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মুদ্রাস্ফীতির চাপ
মুদ্রাস্ফীতির সময় কাগজের মুদ্রার মান কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সোনার দিকে ঝোঁকেন। ফলে সোনার চাহিদা ও দাম—দু’টোই বাড়ে। সোনা মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর হেজিং টুল হিসেবেও কাজ করে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। এই অনিশ্চিত পরিবেশে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, যার ফলে এর চাহিদা ও মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়।
সুদের হারের ইঙ্গিত
সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকলে সোনার মতো নন-ইয়েল্ডিং অ্যাসেট বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কারণ, সুদের হার কমলে বন্ড বা সঞ্চয় প্রকল্পের রিটার্ন কমে যায়, তখন সোনায় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে লাভজনক মনে হয়।
ক্রেতাদের উপর প্রভাব
সোনার দামের এই লাগাতার অস্থিরতা সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভারতে সোনা শুধু গহনা নয়, এটি বিনিয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
বিয়ের মরসুমে উদ্বেগ
নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিয়ের মরসুমে সাধারণত সোনার চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু উচ্চ দামের কারণে বহু পরিবারকে গহনার বাজেট কমাতে হচ্ছে। কেউ গহনার ওজন বা আকার কমাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দাম কমার আশায় কেনাকাটা পিছিয়ে দিচ্ছেন।
বিনিয়োগকারীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আগে সোনা কিনে রাখা বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে লাভের মুখ দেখছেন। চলতি বছরে সোনার দাম প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। তবে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এত উচ্চ দামে সোনা কেনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞরা এখনও সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা
বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ২০২৫ সালে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে এবং প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৯০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনেও সোনার দামে প্রভাব ফেলবে। তবে কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত উচ্চ দামের কারণে ২০২৫ সালে ভারতে সোনার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, কারণ সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে কম সোনা কিনবেন।
সোনার বিশুদ্ধতা ও ক্যারেট
ভারতে সোনার দাম নির্ধারণে ক্যারেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এটি সবচেয়ে খাঁটি সোনা হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এটি বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট সোনা প্রায় ৯১.৬৭ শতাংশ বিশুদ্ধ এবং এতে তামা বা অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে, যা গহনা তৈরির জন্য একে আরও মজবুত করে তোলে। গহনার দোকানে সোনার দামের সঙ্গে জিএসটি, টিসিএস এবং মেকিং চার্জ যুক্ত হয়, ফলে গ্রাহকদের জন্য চূড়ান্ত দাম আরও বেড়ে যায়।