ভারতে আজকের সোনার দাম রেকর্ড স্পর্শ করছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও উৎসবের চাহিদা বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করছে।

ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 13 October 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম ( Gold Price Hike)। গত কয়েকদিন ধরে যা বাড়ছিল, সোমবার বাজার খুলতেই তা নতুন রেকর্ড স্পর্শের দিকে এগোচ্ছে। দেশের সোনা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কপালে এখন গভীর চিন্তার ছাপ আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে ভারতে হলুদ ধাতুর মূল্য লাগামছাড়া বাড়ছে। উৎসবের মরসুমের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি একদিকে যেমন ক্রেতাদের মুখ ভার করছে, তেমনই বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও বড়সড় প্রভাব ফেলছে। কলকাতা এবং মুম্বইয়ের মতো বড় বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম নতুন মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে, যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকেই এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন, সোনার বাজারে কবে এবং কিভাবে বিনিয়োগ করবেন।
আজকের সোনার দাম: নতুন রেকর্ড গড়ার মুখে
ভারতে আজকের সোনার দাম (Today's Gold Price) আবারও নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতা উভয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গত কয়েক মাস ধরেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, এবং এটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ₹১২,৫২৫ এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ₹১১,৪৮২ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এই দাম দেশের নামকরা জুয়েলার্স থেকে নেওয়া হয়েছে।
এক মাস আগেও, ১ অক্টোবর, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ₹১,১৭,৬৫০ ছিল, যা এখন ₹১,২৫,০৭০ অতিক্রম করেছে। এই দ্রুত বৃদ্ধি উৎসবের মরসুমে সোনা কেনার পরিকল্পনায় থাকা বহু মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। গত এক বছরে সোনার দাম প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৬০% বেড়েছে। মার্চ ২০২৫-এও সোনার দাম অন্তত ১৫ বার নতুন রেকর্ড গড়েছিল।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
সোনার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণে ঘটছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সোনাকে ঐতিহাসিকভাবেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তাই অনিশ্চয়তার সময়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সরকারের শাটডাউন, সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং দুর্বল মার্কিন ডলারও সোনার দাম বাড়াতে সাহায্য করছে। যখন সুদের হার কম থাকে, বন্ড বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো সুদ-বহনকারী সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের সোনায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কও তাদের সোনার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে চীনের পিপলস ব্যাঙ্ক ১১ মাস ধরে সোনা কিনছে এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কও (RBI) তাদের সোনার হোল্ডিং বৃদ্ধি করেছে। এই কেনাকাটা সোনার দামকে আরও উপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব
বিনিয়োগকারীদের জন্য: যারা সোনায় বিনিয়োগ করেছেন, তাদের জন্য এটি লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত এক বছরে সোনা প্রায় ৫৫% রিটার্ন দিয়েছে। বিশেষ করে গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগে ভারতীয়দের আগ্রহ বেড়েছে, এবং সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ গোল্ড ইটিএফ-এ প্রায় $৯০২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্বল্পমেয়াদে দামের সামান্য সংশোধনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছেন।
সাধারণ মানুষের জন্য: ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনা বিবাহ, উৎসব এবং শুভ অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আজকের দাম এতটাই বেশি যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি কেনা কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারদের বাজেটের ওপর প্রভাব পড়ছে। উৎসবের মরসুমে চাহিদা কিছুটা কমতে পারে, কারণ ক্রেতারা উচ্চ মূল্যের কারণে কম কেনাকাটা করতে পারেন।
জুয়েলারি শিল্পে: খুচরা বিক্রেতারা উচ্চ সোনার দামের কারণে সমস্যায় পড়েছেন। বড় বিক্রেতারা উৎসবের মরসুমে ভালো বিক্রি দেখলেও ছোট ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। ২১ ক্যারেটের পরিবর্তে ১৮ ক্যারেটের চাহিদা বেড়েছে, যা প্রায় ২০% কম দামে পাওয়া যায় এবং তরুণ ক্রেতাদের কাছে ফ্যাশনেবল।
সরকারের পদক্ষেপ ও প্রত্যাশিত পরিবর্তন
সরকার সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫ সালে সোনা ও রুপোর উপর জিএসটি ৩% থেকে কমিয়ে ২.৫% করা হয়েছে। এক লক্ষ টাকার সোনায় এখন ₹৫০০ কম কর দিতে হবে। এর লক্ষ্য হলো অবৈধ আমদানি রোধ ও বৈধ ব্যবসায় উৎসাহিত করা।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।