বাজেট ২০২৬ পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বাজারে নতুন গতি আনবে—এমনটাই শিল্পমহলের প্রত্যাশা, আর সেই আশাবাদেই সুর মিলিয়েছেন সিদ্ধা গোষ্ঠীর কর্ণধার সঞ্জয় জৈন।

শেষ আপডেট: 1 February 2026 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–কে (Budget 2026) ঘিরে রিয়েল এস্টেট শিল্পে (Real estate) আশাবাদের সুর শোনা গেল রবিবার। দেশের অন্যতম শীর্ষ আবাসন সংস্থা সিদ্ধা গোষ্ঠীর (Siddha) ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় জৈন (Sanjay Jain) এদিন সন্ধেয় বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় দ্য ওয়াল (The Wall)-কে বলেন, “পরিকাঠামোর উপর সরকারের ধারাবাহিক জোর দীর্ঘমেয়াদে রিয়েল এস্টেট বৃদ্ধির পক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচক”।
বাজেটে ১২.০২ লক্ষ কোটি টাকা মূলধন খাতে (ক্যাপেক্স) বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একাধিক হাই-স্পিড রেল করিডর সম্প্রসারণের ঘোষণাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সঞ্জয় জৈন। জানিয়ে রাখা ভাল, এর মধ্যে একটি হাই স্পিড করিডরের সুবিধা পাবেন উত্তরবঙ্গের মানুষ। শিলিগুড়ি ও বারাণসীর মধ্যে সেই হাই স্পিড ট্রেন করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।
সঞ্জয় জৈনের মতে, উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগ শহর ও শহরতলির মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ করবে। এর ফলে মূল শহরের বাইরের উদীয়মান ও পার্শ্ববর্তী মাইক্রো-মার্কেটগুলিতে আবাসনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অর্থাৎ এতে শিলিগুড়ি ও লাগোয়া শহরতলিতে আবাসন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেন, “পরিকাঠামো উন্নয়ন মানেই শুধু রাস্তা বা রেল নয়—এটি শহুরে জীবনযাত্রার মানকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে। কর্মস্থল ও আবাসনের মধ্যে দূরত্ব কমলে মানুষ নতুন এলাকাতেও বসবাসে আগ্রহী হন।” বিশেষ করে কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদের মতো মহানগর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে এই প্রবণতা আরও জোরদার হবে বলে তাঁর মত।
বাজেট পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের মানসিকতায়ও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন সিদ্ধা গোষ্ঠীর এমডি। তাঁর মতে, এখন আর শুধু কর ছাড় বা বিনিয়োগ সুবিধা দেখে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। বরং লাইফস্টাইল, লাইভেবিলিটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক পরিকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি বাসযোগ্যতা—এই বিষয়গুলিই ক্রেতাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল, অফিস হাব ও গণপরিবহণের সহজ সংযোগ—এই সবই এখন বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে ডেভেলপারদের স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ, সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাজেটের পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই ক্যাপেক্স-পুশ শুধু নির্মাণ শিল্প নয়, স্টিল, সিমেন্ট, পরিবহণ ও কর্মসংস্থানের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও একটি স্থিতিশীল ও টেকসই বৃদ্ধির পথ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬ পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বাজারে নতুন গতি আনবে—এমনটাই শিল্পমহলের প্রত্যাশা, আর সেই আশাবাদেই সুর মিলিয়েছেন সিদ্ধা গোষ্ঠীর কর্ণধার সঞ্জয় জৈন।