Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

'অরেঞ্জ ইকোনমিতে' জোর সীতারামনের, কী এই অর্থনীতি? জড়িয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ

অরেঞ্জ ইকোনমি বা সৃষ্টিশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বড় ঘোষণা করলেন নির্মলা সীতারামন।অ্যানিমেশন-গেমিং থেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বাজেট ২০২৬ কী পথ দেখাল।

'অরেঞ্জ ইকোনমিতে' জোর সীতারামনের, কী এই অর্থনীতি? জড়িয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ

অরেঞ্জ ইকোনমি

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 1 February 2026 18:45

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজেট মঞ্চ থেকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো সম্পর্কে রবিবার বিশেষ বার্তা দিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’র কথা উঠল তাঁর বক্তৃতায়। সীতারামন (Nirmala Sitharaman) সোজাসুজি বললেন, ভারতের সৃষ্টিশীল শিল্পই আগামী দিনের বড় কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস। আর তাই অ্যানিমেশন–গেমিং–ডিজিটাল কনটেন্ট–ডিজাইন— গোটা ক্রিয়েটিভ ইকোসিস্টেমকে জোরদার করতে হবে।

১৫ হাজার স্কুলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব, গড়ে উঠবে নতুন কর্মশক্তি

সীতারামন জানান, ভারতের অ্যানিমেশন–ভিএফএক্স–গেমিং–কমিকস (AVGC) শিল্প আগামী চার বছরে ২০ লক্ষ পেশাদার লাগবে। সেই প্রয়োজন মাথায় রেখে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিকে (Indian Institute of Creative Technologies) পাশে নিয়ে তৈরি হচ্ছে ১৫,০০০ সেকেন্ডারি স্কুল আর ৫০০ কলেজে এভিজিসি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব।

সরকারের মতে, এটা শুধু চাকরির নতুন পথ খুলে দেবে তা নয়, নতুন প্রজন্মকে গ্লোবাল ক্রিয়েটিভ মার্কেটে প্রতিযোগিতামূলকও করে তুলবে।

এখন কী এই ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’?

সহজ ভাষায় ক্রিয়েটিভ ইকোনমি। মানে, প্রচলিত শিল্প বা উৎপাদন নয়— অর্থনীতির চালিকাশক্তি হচ্ছে পরিকল্পনা, দক্ষতা, সংস্কৃতি আর প্রযুক্তি।

এর মধ্যে পড়ে—

  • অ্যানিমেশন
  • ভিডিও গেম
  • ফিল্ম–মিউজিক
  • বিজ্ঞাপন
  • ফ্যাশন–ডিজাইন
  • ডিজিটাল কনটেন্ট
  • প্রকাশনা
  • সফটওয়্যার–সৃজনশীল পরিষেবা

“উন্নয়ন + সংস্কৃতি + প্রযুক্তি” এই তিনের মিশ্রণ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) WAVES 2025 সম্মেলনেই বলতে শোনা গিয়েছিল— ভারত অরেঞ্জ ইকোনমির উত্থান দেখছে। রবিবার সেই থিমই বাজেটে পাকাপাকিভাবে জায়গা পেল।

ইকোনমিক সার্ভের কী মূল্যায়ন ছিল?

ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫–২৬ (Economic Survey 2025–26) জানাচ্ছে, অরেঞ্জ ইকোনমিই আগামিদিনের ভবিষ্যৎ।  

এতে উল্লেখ করা হয়—

  • দেশের আরবান সার্ভিস, ট্যুরিজম, ইভেন্ট–ইন্ডাস্ট্রি সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে উঠছে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির দৌলতে।
  • ভারতে লাইভ এন্টারটেনমেন্ট (Live Entertainment) শিল্প ২০২৪ সালে ১০,০০০ কোটি ছুঁয়েছে।
  • কনসার্ট–শো–ফেস্টিভ্যাল শুধু টিকিট বিক্রি নয়, হোটেল–ট্রান্সপোর্ট–লজিস্টিকস–ইভেন্ট সার্ভিস— সবকিছুর বাজার বাড়ায়।
  • আমেরিকায় শুধু লাইভ মিউজিকই ২০১৯ সালে ৯ লক্ষ চাকরি ও ১৩০ বিলিয়ন অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করেছে।

সার্ভের মতে, “অরেঞ্জ ইকোনমি আর ‘নিছ এন্টারটেনমেন্ট’ নয়, এটা ভারতের নয়া আরবান–গ্রোথ মডেল।”

কোথায় সমস্যা?

সার্ভে বলছে, সেক্টরটি যত বড় হচ্ছে, ততই সমস্যা বাড়ছে—

  • অনুমতির জটিলতা
  • ইভেন্ট–অবকাঠামোর অভাব
  • দক্ষ পেশাদারের স্বল্পতা
  • রেগুলেটরি বাধা
  • অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা
  • এগুলো দূর করতে সরকারের প্রয়োজন স্পষ্ট নীতি–সহায়তা।

বাজেটের ঘোষণায় কী বদল আসতে পারে?

অর্থমন্ত্রকের ব্লুপ্রিন্ট অনুযায়ী—

১. সিঙ্গল–উইন্ডো সিস্টেম (Single-Window Mechanism)

লাইভ ইভেন্ট–শুট–ফেস্টিভ্যাল–কনসার্টের অনুমতি পেতে একটাই দরজা। এখনকার মতো অসংখ্য দফতরের অনুমতি লাগবে না।

২. হেরিটেজ মনুমেন্টে সাংস্কৃতিক ইভেন্ট

পর্যটন বাড়াতে বিশেষ বিশেষ মনুমেন্ট খোলা হবে, তাতে হতে পারে বার্ষিকশো অথবা বিশ্বমানের কনটেন্ট ইভেন্ট।

৩. স্কিল বাড়ানোর উদ্যোগ (Skill Development)

ডিজাইনার, অ্যানিমেটর, গেম–ডেভেলপার, ক্রিয়েটিভ টেক–পেশাদার তৈরির জন্য বড় উদ্যোগ। বাজেট বলছে— এই সেক্টরকে চালাতে দক্ষ মানবশক্তির অভাব এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা, তাই আগে স্কিল বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

সরকার কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে এই সেক্টরকে?

  • যাতে দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি হয়
  • শহরের অর্থনীতি চাঙা থাকে
  • পর্যটন বাড়ে
  • ডিজিটাল ভারতের সঙ্গে সোজাসাপটা সম্পর্ক
  • রফতানির সম্ভাবনা বিপুল
  • গ্লোবাল মার্কেটে ভারতীয় কনটেন্টের প্রবেশদ্বার খুলে দেয়
  • অরেঞ্জ ইকোনমি এখন ভারতের “সফট পাওয়ার + স্কিল–ড্রিভেন গ্রোথে”র ডবল ইঞ্জিন।

সব মিলিয়ে মূল্যায়ন

বাজেট ২০২৬–২৭ যে শুধু অবকাঠামো–ইনফ্রা বা শিল্প নয়, সৃষ্টিশীল অর্থনীতিকেও প্রথম সারিতে রাখছে— সেটা পরিষ্কার।

১৫ হাজার স্কুলে কনটেন্ট ল্যাব, একাধিক ইনস্টিটিউট, অনুমতির জটিলতা কমানো, স্কিলিং— সব মিলিয়ে ভারতের অরেঞ্জ ইকোনমিকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখাই আঁকল সরকার।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ভারত এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রিয়েটিভ ইকোনমি হাব হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লিখিয়ে দিল আজ থেকেই।


```