Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

ইউনুসের নয়া ছক, এবার হাসিনার দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ক'দিন আগেই জানিয়েছেন, আওয়ামী লিগকে মামলায় যুক্ত করতে কোনও বাধা নেই। ট্রাইব্যুনাল আইনে সেই বিধান আছে।

ইউনুসের নয়া ছক, এবার হাসিনার দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা

ইউনুসের নয়া ছক! (ছবি- সংগৃহীত)

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 18 November 2025 10:55

অমল সরকার 

শেখ হাসিনা ও‌ আসাদুজ্জামান‌ খান‌ কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় পর এবার আওয়ামী লিগকে‌ (Awami League) নিষিদ্ধ ঘোষণার পথে এগোচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। এই ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া, ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি বিধি সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। ট্রাইবুনালের এখন সংশ্লিষ্ট মামলায় আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বলে ঘোষণা করতে কোন বাধা নেই।

‌চলতি বছরের ১২ মে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউনুস সরকার (Yunus Government) আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে দলকে নিষিদ্ধ করেনি। এবার সেই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ঢাকার সরকারি ও রাজনৈতিক মহলের খবর, এই ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করতে পারে। এছাড়া ট্রাইবুনালের বিচারপতিও স্বত: প্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করতে পারেন কিনা সেই সম্ভাবনা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‌

সোমবার হাসিনার (Bangladesh Ex PM Seikh Hasina) রায় দেওয়ার সময় পদে পদে আদালত আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। গণ অভ্যুত্থানের সময় ওবায়দুল কাদেরের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছিল।‌ অভিযোগ, তিনি বলেছিলেন, 'আন্দোলনকারীদের মোকাবিলায় ছাত্র লিগই যথেষ্ট‌।‌' শেখ হাসিনার সঙ্গে তার আত্মীয় তথা ঢাকা দক্ষিণ পুর নিগমের তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপসের টেলিফোনে কথোপকথনকেও মানবতা বিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল

ওবায়দুল কাদের একাধিকবার দাবি করেছেন তিনি ওই মন্তব্য করেননি। সোমবার আদালত রায় ঘোষণায় সময় কাদেরের ওই মন্তব্যকে আওয়ামী লিগের আন্দোলন বিরোধী নিপীড়ন নির্যাতনের দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করেছে। ‌ আন্দোলন দমনে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লিগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন যুব লিগ, ছাত্র লিগ, শ্রমিক লিগ একযোগে সশস্ত্র অবস্থায় ময়দানে নেমেছিল বলে আদালতের অভিযোগ। ‌

ঢাকার একাধিক সরকারি সূত্র দ্য ওয়াল -কে জানিয়েছে, হাসিনার মামলার‌ রায় হাতিয়ার করে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে পারেন সরকারের অনুগত কোনও ব্যক্তি।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ক'দিন আগেই জানিয়েছেন, আওয়ামী লিগকে মামলায় যুক্ত করতে কোনও বাধা নেই। ট্রাইব্যুনাল আইনে সেই বিধান আছে।

সংঘঠিত অপরাধ অর্থাৎ অর্গানাইজড ক্রাইমের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার নজির‌ বাংলাদেশে নেই। ‌তবে ভারতে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধেই এমন মামলা বিচারাধীন। সিবিআই ও ইডি দিল্লির মদ কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্টে আম আদমি পার্টির দলগতভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে। মদ ব্যবসায়ীদের থেকে নেওয়া ঘুষের টাকা আপের দলীয় নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়েছিল। ওই মামলায় আপ দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের রাজনৈতিক দল হিসাবেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে।

আওয়ামী লিগকে দল হিসাবে বিচারের কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তাবটি সামনে এনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যদানের পর তিনি বলেন,  শেখ হাসিনার নির্দেশেই মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে। তবে যেভাবে অপরাধ সংঘটিত হয় আওয়ামী লিগ তাতে দলগতভাবে অংশ না নিয়ে থাকলে সম্ভব হত না। তাই দলেরও বিচার করা দরকার।

বাংলাদেশের চলতি অন্য কোনও আইনে সরাসরি কোনও দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিধান ছিল না। সেই কারণে সন্ত্রাস দমন আইনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সেই নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লিগের নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে। কিন্তু আইনত দলটি এখনও নিষিদ্ধ নয়। দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। ‌ রাজনৈতিক দলকেও নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি নিয়ে এখন ট্রাইবুনালে যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার। এই ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদের অর্ডিন্যান্স এ ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

ঢাকার একাধিক সূত্রের খবর, ইউনুস সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই নাহিদ ওই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যে কারণে সঙ্গে সঙ্গে তা লুফে নেন চিফ প্রসিকিউটর। নাহিদ অথবা দলের কোনও সামনের সারির নেতা আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মোর্তূজা মজুমদারও স্বত:প্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করতে পারেন। সোমবার হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মামলায় ট্রাইবুনাল দু'জনের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার রায় দিয়েছে।‌ খবর অস্থাবর সম্পত্তির টাকায় জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল। আওয়ামী লিগের ক্ষেত্রেও দলের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এখন সরকারের লক্ষ্য বলে একাধিক সূত্রের খবর।


```