প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina death penalty) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায় ঘোষণার দিন কেন বদলে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা এও, ষড়যন্ত্রই ছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2025 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina death penalty) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) রায় ঘোষণার দিন কেন বদলে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা এও, ষড়যন্ত্রই ছিল।
আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় দেওয়া হবে ১৪ নভেম্বর (14th November)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে, ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল জানায় রায় ঘোষণা হবে ১৭ নভেম্বর (17th November)। আর এই তারিখটিই হাসিনার বিয়ের দিন। ১৯৬৭ সালের এই দিনেই তিনি বিয়ে করেছিলেন বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে। ২০২৫ সালের ঠিক এই দিনেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এই মিল নিয়েই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh News)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি উঠছে—রায় ঘোষণার তারিখ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে সিদ্ধান্তটির মানসিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত আরও তীব্র হয়। ঢাকার ‘Centrist Nation TV’ পোস্ট করেছে— “১৭ নভেম্বর—হাসিনার ১৯৬৭-র বিয়ের দিন, আর ২০২৫-এ মৃত্যুদণ্ডের দিন। দিনটি যেন ইতিহাসে দুই ভিন্ন মুখ নিয়ে ফিরে এলো।”
ঢাকার আর এক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘The Headlines’ লিখেছে—ব্যক্তিগত স্মৃতি আর ঐতিহাসিক রায়—দুটি ঘটনাই মিলল ১৭ নভেম্বর।
অনেকে বলছেন—এ কেবলই সমাপতন। নিতান্ত কাকতালীয়। আবার অন্যদের মতে—“তারিখ বদলানো হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, যাতে হাসিনার উপর মানসিক চাপ বাড়ে।
রায় ঘোষণার পরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন—ট্রাইব্যুনাল “পক্ষপাতদুষ্ট”। এই রায় আসলে রাজনৈতিক প্রতিশোধ। এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত সরকার “আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন” করতে চাইছে।
হাসিনার দাবি—তিনি ন্যায়বিচারের সুযোগ পাননি, রায় ছিল “আগে থেকেই ঠিক করা।” সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করছেন, “ড. ইউনূস খুব চালাক। বিয়েবার্ষিকীর দিনই রায় দেওয়ার জন্য তারিখ বদল করা হয়েছে।” আবার কিছু পোস্টে তীব্র ভাষায় কটূক্তিও করা হয়েছে। ডান-বাম দুই শিবির থেকেই প্রশ্ন—তারিখ পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
কে ছিলেন এম এ ওয়াজেদ মিয়া? (Sheikh Hasina's husband M. A. Wazed Miah)
শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য পরমাণুবিজ্ঞানী। পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের গবেষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের আগে অন্যায়ভাবে চাকরি খোয়ালেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের চেয়ারম্যান হন। তাঁর লেখা বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে- ফান্ডামেন্টালস অফ ইলেকট্রোম্যাগনেটিক্স (Fundamentals of Electromagnetics), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকারের চালচিত্র।