তারা বলেছে, হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার মৌলিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। ওই সংগঠনের বক্তব্য, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সরকার হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে কোন জোরালো দাবি কখনোই শেষ করেনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 November 2025 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (Bangladesh International Tribunal) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment) এবং সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া রাজনৈতিক প্রহসন, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ নেত্রী (Awami League) শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক সহকর্মী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালের রায় (Sheikh Hasina Verdict) সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছে রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ।
তারা বলেছে, হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার মৌলিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। ওই সংগঠনের বক্তব্য, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সরকার হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে কোন জোরালো দাবি কখনোই শেষ করেনি।

'যদি বাংলাদেশের (Bangladesh) হাতে কোনও প্রমাণ থাকত, তবে তারা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আবেদন করতে পারত। কোনও রাষ্ট্র যদি আইনের শাসন মেনে চলে, তবে তাকে অবশ্যই অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণ চাইতে হয় - যেভাবে ভারত আবু সালেমকে পর্তুগালের সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যর্পণের জন্য লড়াই করেছে এবং বর্তমানে বেলজিয়ামের আদালতে মেহুল চোকসিকে প্রত্যর্পণের জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের হাতে কোনও প্রমাণ নেই, তাই তারা প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তাঁর সহকর্মীদের একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট-এর বিচারে সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,' বলেছেন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপের পরিচালক সুহাস চাকমা।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবু সায়েদ হত্যাকাণ্ড, ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীকে হত্যা এবং গত বছর আশুলিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাস্তব ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চার্জশিটে নাম পর্যন্ত না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হল? সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এই অপরাধগুলোর রাজসাক্ষী বা স্বীকারোক্তিদাতা হতে পারেন না, কারণ তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না', বলেছেন সুহাস চাকমা।
সোমবার রায় ঘোষণার সময় প্রমাণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দফতর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বিবিসি ইত্যাদির রিপোর্টকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দফতর বা বিবিসির রিপোর্ট তাঁদের প্রতিনিধিদের সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়—বিশেষ করে যখন মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাক্ষ্য বা জেরা কোনওটিই এই বিচারপ্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়নি। বিচারটি ভুক্তভোগীদের জন্যও ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা, কারণ প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না।