ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, 'মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় চারটি শাস্তির মধ্যে একটি হচ্ছে দল নিষিদ্ধ করা। অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল দল নিষিদ্ধ করতে পারবে।'
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 10:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের (Awami League) দলীয় কার্যক্রম আগেই নিষিদ্ধ হয়েছে। এবার শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছে মুহাম্মদ ইউনুস এর সরকার। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার বিচার চলছে তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইউনু সরকার (Yunus government) এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল হিসেবে আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হবে। সরকারের বক্তব্য, শুধু শেখ হাসিনা নন, আওয়ামী লিগ দলীয়ভাবেই কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়ে ছিল। এমন দলের রাজনীতি করার অধিকার নেই।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, 'মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় চারটি শাস্তির মধ্যে একটি হচ্ছে দল নিষিদ্ধ করা। অপরাধ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল দল নিষিদ্ধ করতে পারবে।' তিনি জানান, আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে ইতিমধ্যেই তদন্তকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত রিপোর্ট ট্রাইবুনালে জমা হওয়ার পর বিচারপতিরা শুনানির সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত মাসেই আওয়ামী লিগকে (Awami League) নিয়ে সরকারের এমন ভাবনাচিন্তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লিগকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত সহ বেশ কিছু দেশ। একাধিক সূত্রের খবর, এই ব্যাপারে বেশ কিছু ইউরোপিয় দেশও বাংলাদেশের উপর চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার মনে করছে, আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে তাদের ভোটে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব।
কীভাবে সরকার সিদ্ধান্তে পৌঁছল যে আওয়ামী লীগ দলগতভাবেই মানবতা বিরোধী অপরাধী জড়িয়ে ছিল? প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের বক্তব্য, সরকারের কাছে প্রমাণ আছে, গত বছর কোটাবিরোধী আন্দোলন চলার সময় শেখ হাসিনা ছাত্র লিগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইনানকে টেলিফোন করে নির্দেশ দেন সংগঠনের ছেলে-মেয়েদের পথে নামাতে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কোবির নানককে তিনি জাহাঙ্গীর কবির নানককে বলেছেন, মহম্মদপুরে লোক নামিয়ে দাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যকে বলেছেন, 'ছাত্রলিগ-যুব লিগকে বলে দিয়েছি।'
প্রসিকিউটর বলেন, এসব দলীয় নির্দেশনা। একটি কি স্পষ্ট দলকে নামানো হয়েছিল আন্দোলন দমনে। স্বভাবতই পার্টি হিসেবে আওয়ামী লিগও হিংসায় অভিযুক্ত।
আর এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন চলার সময় একপর্যায়ে পুলিশ ক্লান্ত হয়ে পড়লে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীরাই বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছিল। তখন সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।যাতে দেখা যায় আওয়ামী লিগের স্থানীয় নেতারা বন্দুক থেকে গুলি ছুড়ছে আন্দোলনকারীদের দিকে।