সোমবার একই উদ্দেশ্য একটি আইন সংশোধন করেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

মহম্মদ ইউনুস-শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 7 October 2025 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ( Bangladesh Election Commission) সিদ্ধান্ত করেছে ফেরার ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লিগের (Awami League) আত্মগোপনে থাকা নেতাদের ভোটে প্রার্থী হওয়া আটকাতেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওয়াকিবহাল মহলের খবর। সোমবার একই উদ্দেশ্য একটি আইন সংশোধন করেছে মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম (Tajul Islam) মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে কারও বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের অর্থাৎ চার্জ গঠন হয়ে গেলে তিনি আর বাংলাদেশের কোন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। চিফ প্রসিডিউটার জানান, ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এই মর্মে সংশোধন করা হয়েছে। সরকারিভাবে বলা না হলেও বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে মূলত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লিগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ আটকাতেই আইন সংশোধনের এই আয়োজন। চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী মাসের গোড়ায় এই ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজা ঘোষণা করা হতে পারে একই মামলায় সাজা ঘোষণা হতে পারে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধেও। আগামী দিনে সাবেক সেতুমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার শুরু হবে।
ওয়াকিবহল মহলের খবর, আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে ইউনু সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে পারে সরকার। তা না হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করতে পারে। পরিস্থিতিতে দু-কূল রক্ষার নীতি নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিলেও শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতৃত্বকে ভোটে প্রার্থী হতে দেওয়া হবে না। অনেকদিন ধরেই অন্তর্বর্তী সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লিগকে শেখ হাসিনার কবল থেকে বের করে আনতে। একটা মহল প্রচার করছে আওয়ামী লিগের সবাই খারাপ নয়। সৎ ও সজ্জন নেতাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া উচিত। যদিও কোন মানদণ্ডে সৎ-অসৎ বাছাই করা হবে সে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লিগের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে সক্ষম হয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই আন্দোলন চালাচ্ছে তাঁর দল।
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সিদ্ধান্ত হয় মানবতা বিরোধী অপরাধে চার্জশিট জমা হয়েছে এমন আসামিদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এর জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ এ নতুন ধারা যুক্ত করা হবে। নতুন সংযোজিত ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত আইনের অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল হলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা ওই পদে বহাল থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই ভোটে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেকের মতে, যা মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ।