বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা নানা বিষয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে ভারতের বিদেশ সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য দুই সরকারের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়গুলি পরীক্ষা করছি। আমরা এই বিষয়গুলিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

শেষ আপডেট: 6 October 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কি বাংলাদেশ ফেরত পাঠাবে ভারত সরকার? ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির দিল্লিতে অবস্থানরত আওয়ামী লিগ সভানেত্রীকে ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে করা মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লিগ বিরোধী শিবির মনে পড়ছে বিক্রম মিস্ত্রি হাসিনাকে ফেরানোর আভাস দিয়েছেন। কী বলেছেন ভারতের বিদেশ সচিব।ঢাকার সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধি দল বর্তমানে দিল্লি সফর করছেন। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সোমবার সকালে দিল্লিতে মিলিত হন বিদেশ সচিব। বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা নানা বিষয়ের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে ভারতের বিদেশ সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি বিচারিক আইনি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য দুই সরকারের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়গুলি পরীক্ষা করছি। আমরা এই বিষয়গুলিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।
ভারতের বিদেশ সচিবের এই প্রতিক্রিয়াকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহল নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। একাংশ মনে করছে এই প্রথম ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের একজন শীর্ষ কর্তা খোলাখুলি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এতদিন ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের আর্জিকে বিবেচনার মধ্যেই নেয়নি। গতবছর অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রক হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লির কাছে 'নোট ভারবাল' পাঠিয়েছে। এটি একটি কূটনৈতিক যোগাযোগ পদ্ধতি। ভারতের তরফে তখন সরকারিভাবে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের আরজি নিয়ে এখনই কোন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার উপযুক্ত নথিপত্র দেয়নি বলেও দিল্লির তরফে তখন সূত্র মারফত দাবি করা হয়েছিল হয়েছিল।
বিদেশ সচিবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আর একটি মহল মনে করছে, একজন আমলা হিসেবে যা বলা উচিত বিদেশ সচিব সেটুকুই বলেছেন। তিনি সরাসরি এ কথা বলেননি যে ফেরানো হবে না। আবার ফেরানো হবেই এমন কথাও স্পষ্ট করেননি। তিনি বিষয়টি আইনি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এই ব্যাখ্যা যারা দিচ্ছেন তারা আরও দাবি করছেন, ভারতের বিদেশ সচিব যা বলেছেন তাতে এটাই স্পষ্ট হয় যে শিগগিরই কিছু হচ্ছে না। কারণ আইনি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই এই প্রশ্নের দ্রুত মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই মহল আরো মনে করছে, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত হাসিনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনায় খুব বেশি আগ্রহ দেখাবে না।
বিদেশ সচিবের মন্তব্যে হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আর এক পক্ষ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে চলতি মাসের শেষে বা আগামী মাসের গোড়ায় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা ঘোষণা করা হতে পারে। সোমবার থেকেই ওই মামলায় সাক্ষীদের জেলা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকার এবং ট্রাইব্যুনাল থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে, হাসিনার মামলার সাজা অক্টোবরের শেষ কিংবা নভেম্বরের শুরুতে ঘোষণা করা হতে পারে। কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে ট্রাইবুনাল সাজা ঘোষণার পর ভারত সরকারের পক্ষে হাসিনাকে ফেরানোর দাবি উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে আওয়ামী লিগ নেত্রী যেহেতু ভারতের অতিথি তাই যখনই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরানো হোক না কেন তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ঢাকার উপরে চাপ সৃষ্টির কূটনৈতিক অধিকার দিল্লির রয়েছে। হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হলে তবেই তাঁকে ফেরাবে দিল্লি।
আবার আওয়ামী লিগের একাংশ জানাচ্ছে তাঁদের নেত্রী নিজেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিতে পারেন। তার আগে তিনি নিশ্চিত হতে চান দেশে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। দলের ফেসবুক পেজের ভাষণে হাসিনা ইতিপূর্বে একবার বলেছেন আমি বিচারের মুখোমুখি হতে ভয় পাই না। প্রশ্ন হল বাংলাদেশ আইনের শাসন নেই আদালতে পর্যন্ত মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। জেলখানাতে আওয়ামী লিগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লিগের দাবি ইউনুস জামানায় দলের প্রায় ৪০ জনকে জেলখানায় পিটিয়ে হত্যা করেছে কারা প্রশাসন। চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও অসংখ্য।