বাংলাদেশের দুর্গাপুজোয় এবার বড় ধরনের কোনও গোলমাল হয়নি। মোটের উপর শান্তিতেই পুজো কেটেছে। কী বলছে ওয়াকিবহাল মহল?

শেষ আপডেট: 5 October 2025 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে অসুরের গালে দাড়ি থাকা নিয়ে অশান্তিতে এবার ঘি ঢালল প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছেন, ৭৯৩ টি মণ্ডপে অসুরের গালে দাড়ি ছিল। পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। দোষীদের খুঁজে বার করে উপযুক্ত সাজা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, অসুরের গালে দাড়ি থাকার কথা নয়।
বাংলাদেশের দুর্গাপুজোয় এবার বড় ধরনের কোন গোলমাল হয়নি। কোথাও কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা আর ঘটনা নেই। মোটের উপর শান্তিতেই পুজো কেটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেটা সম্ভব হয়েছে হিন্দুদের সংযত আচরণের কারণে। পঞ্চমী থেকেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে গিয়ে মৌলবাদীরা হুমকি দেয় অসুরের গোঁফ দাড়ি রাখা চলবে না। মৌলবাদীদের বক্তব্য, গালে দাড়ি লাগিয়ে অসুরকে মুসলমান বলে চালানোর চেষ্টা করেছে হিন্দুরা। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। পুজোয় অশান্তি এড়াতে পুজো কমিটিগুলি এই নিয়ে কোনও বাদ প্রতিবাদে যায়নি।
একাধিক পুজো কমিটির কর্তা জানিয়েছেন, তাদেরকে আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি পুজো নিয়ে যেখানে অসুরের মুখ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মুখের আদলে করা হয়েছিল। বাংলাদেশের সমাজ মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের পুজোর প্রতিমার ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সে দেশের একাধিক ক্লাব কর্তা বলেছেন, মুর্শিদাবাদের ওই প্রতিমার ছবি ছড়িয়ে পড়ায় তারা কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যান।
একাধিক পুজো কমিটি জানিয়েছে, অসুরের দাড়ি গোঁফ নিয়ে শেষ মুহূর্তে মৌলবাদীরা ফতোয়া জারি করায় তারা বাধ্য হয়ে তা ঢেকে দেন। কিছু জায়গায় উগ্রবাদীরা নিজেরাই এই কাজ করেছে। পুজো কমিটিগুলির বক্তব্য, প্রশাসনের কাছ থেকে এই ব্যাপারে তারা কোন সাড়া পাননি। প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এই নিয়ে হইচই না করার পরামর্শ দেয়।
রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কার্যত অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশে অসুরের গালে দাড়ি থাকতো না। এটা ফ্যাসিস্টদের (পড়ুন আওয়ামী লিগ) চক্রান্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য এটা করা হয়েছে।
যদিও পুজো কমিটি এবং হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্য, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সত্যের অপলাপ করছেন। প্রতিবারই অনেক পুজোয় অসুরের গালে দাড়ি থাকে। এমন নয় যে এবারই প্রথম অসুরের গালে দাড়ি লাগানো হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুজো কর্তা বলেছেন তাঁরা অসহায় অবস্থার মধ্যে আছেন। দেশে সক্রিয় কোন রাজনৈতিক দল এই ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা এবং মৌলবাদীদের আচরণের সমালোচনা করছে না। অথচ বিএনপি সহ একাধিক দল ঘটা করে হিন্দুদের বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একাধিক দল এবং নেতা বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের দিন তারিখ ঘোষণা করেছে। অথচ পুজোর সময় অসুরের গোঁফ দাড়ি ঢেকে দিতে হলেও কোন দল, নেতা প্রতিবাদ করেননি। শুধু আওয়ামী লিগ
এই সব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়।