সদ্য নিউইয়র্কে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দাবি করেন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা।

কক্সবাজারে হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 4 October 2025 23:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর মধ্যে বাংলাদেশে দারুন সময় কাটিয়েছেন তৃণমূলের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। চারদিন ছিলেন বাংলাদেশের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে। শুক্রবার গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী চৌধুরীপাড়া গ্রামে। সেখানে দেখে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পৈত্রিক বাড়ি। শনিবার গিয়েছিলেন ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডিতে। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি দেখে এসেছেন, যেটি উগ্রবাদীরা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। শনিবারই পদ্মা সেতু দেশার পর নদীতে নৌকায় ঘুরেছেন। দুপুরে হোটেলে মাছের নানা পদ দিয়ে জমিয়ে খেয়েছেন।
ঢাকা থেকে শনিবার রাতে টেলিফোনে ‘দ্য ওয়াল’কে হুমায়ুন বললেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর এসেছি। এই ক’দিন যত জায়গায় গিয়েছি, সর্বত্র হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলেছি পুজো কমিটির লোকজনের সঙ্গে। আমার কিন্তু মনে হয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়িন, নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা। হিন্দুরা বাংলাদেশে ভালই আছে।’
প্রসঙ্গত, হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারও একই কথা বলে। সদ্য নিউইয়র্কে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দাবি করেন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ মিথ্যা। এগুলি ভারতের ফেক নিউজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার ওই বক্তব্যকে উৎসবের মধ্যে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা মনে করছেন হিন্দুরা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, ইউনুস সত্যের অপলাপ করছেন তাই-ই শুধু নয়, তিনি নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছেন।

ঢাকার ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে হুমায়ুন
গত বছর তিনি নিপীড়নের অভিযোগ মেনে নিয়েছিলেন। ওই সংগঠন হিন্দুদের উপর হামলা, বাড়িঘর পোড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলার খতিয়ান সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ইউনুস জমানায় ৩৩০ দিনে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার দু হাজারের বেশি ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনের আরও দাবি, এবার পুজোর আগেই বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ১৩টিতে দুর্গা প্রতিমা ও প্যান্ডেলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিসক অ্যানালিসিস গ্রুপের পরিচালক সুহাস চাকমা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ৪৯টি পুজো মণ্ডপে এবার হামলা হয়েছে।
হুমায়ুন বাংলাদেশের দুর্গাপুজো নিয়েও তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকগুলি পুজো মণ্ডপে গিয়েছি। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। একজনও কোনও সমস্যার কথা বলেননি। বরং তাঁরা বলেছেন, বাংলাদেশে পুজো নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কেউ গোলমাল করতে এলে মুসলিম প্রতিবেশীরাই সবার আগে বাধা দেবে।’ তাঁর কথায়, আজ (শনিবার) দেখলাম অনেক মণ্ডপে প্রতিমা রয়েছে। রাস্তায় প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা দেখলাম। মানুষ আনন্দের সঙ্গে পুজো কাটিয়েছেন।

পদ্মায় নৌকা বিহার। উপর দিয়ে গিয়েছে বিখ্যাত পদ্মা সেতু।
এপারে মুর্শিদাবাদের একটি পুজোয় এবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের মুখের আদলে অসুরের মুখ করা হয়েছিল। হুমায়ুন বলেন, এ নিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুরা ক্ষুব্ধ। মুসলিমরা আমাকে এ নিয়ে কেউ কিছু বলেননি। হিন্দুরা বলেছেন, এটা সঠিক কাজ হয়নি। এ থেকে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
হুমায়ুনের বাংলাদেশ সফর নিয়ে চিমটি কেটেছেন বিজেপির তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। হুমায়ুন ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, প্রথমবার বাংলাদেশের রেলপথে কক্সবাজার থেকে ঢাকা (ভায়া চট্টগ্রাম) যাত্রা করলাম। সেই পাস্টের উপর তরুণজ্যোতি মন্তব্য করেছেন, ‘ওপারে জামাতিদের সাথে দেখা করতে গেছিল নাকি?’
এই ব্যাপারে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, যে যা বলে বলুক। আমাকে যারা চেনার চেনে। আমার এত দুরবস্থা হয়নি যে বাংলাদেশে আসব রাজনীতির সুবিধা নিতে। এখানে রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আমার দেখাসাক্ষাৎ করার কোনও পরিকল্পনা নেই।

কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে
ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, ‘৩৬ বছর পর ফের বাংলাদেশে এলাম। আমূল বদলে গেছে দেশটা। অনেক উন্নতি করেছে।’ তিনি জানান, দেশভাগের সময় তাঁদের আত্মীয়দের একাংশ যাঁরা মুর্শিদাবাদের সালারে থাকতেন তাঁরা অবস্থা বিপাকে পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। সেই আত্মীয়রা বাংলাদেশের নানা জায়গায় বাস করেন। বলেন, ‘১৪ তারিখ ফিরে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আত্মীয়দের সঙ্গে কাটাব। ১৬ তারিখ আমার বিধানসভা কেন্দ্রে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করছি। ঢাকা থেকেই ফোনে দিন তারিখ ঠিক করে কাজ এগিয়ে রাখছি।’