বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওই ঘটনার দায় আবার চাপিয়েছেন ভারত সরকার এবং আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার উপর। তাঁর বক্তব্য, দুর্গা পুজোর উৎসব ভেস্তে দিতেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে ভারত এবং হাসিনা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 October 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণ এবং সেই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামা মানুষের উপর সে দেশের সেনার নিপীড়ন নির্যাতন নিয়ে সরল হয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকও ওই ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন। জেনিসভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬০ তম অধিবেশনেও পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়।
চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ আন্দোলন করছিলেন। সেই আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী ব্যাপক নিপীড়ন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন স্থানীয় আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। যদিও সেনা সহ কোন নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেনি। এই নিয়ে স্থানীয় মানুষ এখন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওই ঘটনার দায় আবার চাপিয়েছেন ভারত সরকার এবং আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার উপর। তাঁর বক্তব্য, দুর্গা পুজোর উৎসব ভেস্তে দিতেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে ভারত এবং হাসিনা।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বহু বিশিষ্ট নাগরিক ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁদের অন্যতম হলেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, সংগীতশিল্পী বিথী ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, আসিফ সাহান প্রমূখ খাগড়াছড়ির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ। বিবৃতিতে তারা বলেছে যে কোন যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হতে পারে তবে কখনোই তা অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে প্রতিহত করা অনুচিত। আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলির দায়িত্ব হল সংযত ও দায়িত্বশীল এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা।
আর এক মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র খাগড়াছড়ির ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছে। ওই সংগঠন তাদের বিবৃতিতে বলেছে অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা দরকার। গুলিতে নিহতের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সাজার দাবি তুলেছে ওই সংগঠন। এদিকে জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার সংগঠক সুহাস চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনার নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনাগুলি তুলে ধরেন। জেনেভায় চলছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬০তম অধিবেশন। তিনি অধিবেশনে বলেন,গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের গুইমারায় আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডটি ভয়াবহ। ২৩ সেপ্টেম্বর এক আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণের বিচার না হওয়ায় আদিবাসীরা বিক্ষোভ করছিল। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের উপর নির্বিচারে গুলি চালালে তিনজন আদিবাসী নিহত এবং অনেকেই আহত হন।
সুহাস চাকমা আরও বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশে ৬৩৭টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। ৮৭৮ জন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ২,৪৮৫টি ঘটনা ঘটেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এবং ৫,০০,০০০-এরও বেশি বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যকে বরখাস্ত করে। কারণ কমিশন অক্টোবর ২০২৪-এর নিউজ লেটারে গণপিটুনি, ধর্ষণ, রাজনৈতিক হয়রানি, রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা এবং অন্যান্য সহিংস ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছিল। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এক অগ্রহণযোগ্য উদাসীনতা।
সুহাস চাকমা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে বলেন, 'দুঃখজনকভাবে, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব এনএইচআরআই বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অস্তিত্ব না থাকায় সদস্যপদ স্থগিত করেনি। যদিও গত বছর ৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।সুহাস চাকমা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে আহ্বান জানান, যাতে তারা বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সকল সদস্য নিয়োগ দিতে বলে, যেন দেশে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।