Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ! কমিশনের ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্দেশ’ দেখাল তৃণমূল৪২-এ বেবি বাম্প নিয়েও ওয়েট লিফটিং! স্বামী বরুণের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে রোম্যান্স করিশ্মারIPL 2026: হেরেও শীর্ষে রাজস্থান! কমলা ও বেগুনি টুপি আপাতত কোন দুই তারকার দখলে? প্রকাশ্যে আয়-সম্পত্তির খতিয়ান, রাজ না শুভশ্রী! সম্পত্তির নিরিখে এগিয়ে কে? অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেই২০ বছরের 'রাজ্যপাট'! ইস্তফা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন বাবু' নীতীশ কুমারের, উত্তরসূরির শপথ কবেমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেফতারের পর এবার পরিবারের পালা! ইডির নজরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাই, তলব দিল্লিতে

চট্টগ্রামের পাহাড়ে বাংলাদেশ সেনার তাণ্ডব, তদন্তে যেতে কূটনীতিকদের আর্জি বিশ্ব সংস্থার

চট্টগ্রামের পাহাড়ে বাংলাদেশ সেনার তাণ্ডবের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। খাগড়াছড়িতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। ঘটনায় তদন্তে যেতে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে আর্জি জানাল বিশ্ব সংস্থা।

চট্টগ্রামের পাহাড়ে বাংলাদেশ সেনার তাণ্ডব, তদন্তে যেতে কূটনীতিকদের আর্জি বিশ্ব সংস্থার

সংগৃহীত ছবি

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 29 September 2025 10:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি থমথমে। গোটা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি আছে। রবিবার সেখানে সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত শতাধিক। নিহত ব্যক্তিরা স্থানীয় আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের সদস্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রবিবারের সংষর্ষ এবং তার আগে ধারাবাহিক অশান্তির ঘটনাকে বাঙালি ও পাহাড়িয়াদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের ওই এলাকায় পাহাড়বাসী আদিবাসীদের পাহাড়িয়া বলা হয়ে থাকে।

ঘটনার জন্য একতরফা পাহাড়িয়াদের দায়ী করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ, পাহাড়িয়াদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলি দীঘিনালা ও রাঙামাটিতে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে তিনজন নিহতসহ বেশ কিছু এলাকাবাসী আহত হন।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের স্বার্থে তৈরি সংগঠন গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্ডেজিনিয়াস পিপলস অফ দ্য চিটাগং হিল ট্রাকটস ঢাকায় অবস্থিত পশ্চিমা কূটনৈতিক মিশনগুলিকে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে তারা চট্টগ্রাম পাহাড়ে বাংলাদেশ সেনার গণহত্যার ঘটনার তদন্তে প্রতিনিধি দল পাঠায়।

সংগঠনটির বক্তব্য, রবিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অন্তত চারজন আদিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। বিনা প্ররোচণায় গুলিতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। সেনার হামলার সুযোগ নিয়ে বহিরাগত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা এলাকায় আদিবাসীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় এই সংগঠনটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি আদিবাসী পরিবারের বাড়ি এবং ৬০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া, অবৈধ মুসলিম বসতি স্থাপনকারীরা ৭টি দোকান লুট করে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের ১৩টি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয় বহিরাগত মুসলিমরা। সংগঠনটির পক্ষে সঞ্চয় চাকমা বলেন, জুম্মা ছাত্র জনতার ডাকে আদিবাসীরা গত পাঁচদিন ধরে বিচার চেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার সিংহিনালা গ্রামে এক আদিবাসী মারমা কিশোরীকে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা গণধর্ষণ করেছে। আদিবাসীদের দাবি হল অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেফতার। শুধু এই দাবি তোলাতেই আদিবাসীদের হত্যা করা হয়েছে। সেনা বাহিনী জানিয়েছে, গণধর্ষণের ঘটনায় শয়ন শীল নামে এক তরুণকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি পদ্ধতি মেনে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, হিংসার পিছনে দেশি-বিদেশি ব্লগারদের প্ররোচণাকেও দায়ী করে সেনাবাহিনী তাদের বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাকে বৃহত্তম ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ সেনার আন্তঃবাহিনী পরিদপ্তর বিবৃতিতে বলেছে, যে কোনও মূল্যে ওই এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত। সেনার বক্তব্য, গত কয়েক দিনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে এটি স্পষ্ট যে ইউপিডিএফ এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার নারী ও স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের বিভিন্ন পন্থায় তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করছে। একই সঙ্গে পার্বত্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটনের লক্ষ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন দেশি অস্ত্রসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে আসার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেনার তরফে বলা হয়েছে, ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও গুইমারা এলাকায় বিভিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে আইনের আশ্রয় না নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটনের বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে প্রতীয়মান হয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন প্রমাণ সংরক্ষিত আছে।


```