বহুমুখী এই নদী পরিকল্পনা তিস্তা মহাপরিকল্পনা হিসাবে পরিচিত। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য বেজিংকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা।

ইউনুস, মোদী ও হাসিনা
শেষ আপডেট: 19 August 2025 10:15
বাংলাদেশের (Bangladesh) বহু আলোচিত তিস্তা প্রকল্প চিনের (China to implement Teesta River Mega Project) অর্থ ও প্রযুক্তির সাহায্যে করার সিদ্ধান্ত নিল মহম্মদ ইউনুস সরকার (MD Yunus Government) । বহুমুখী এই নদী পরিকল্পনা তিস্তা মহাপরিকল্পনা হিসাবে পরিচিত। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য বেজিংকে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। প্রথম পর্যায়ের জন্য খরচ ধার্য করা হয়েছে ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চিনের কাছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পানীয় জল সরবহারের (Flood control, Irrigation and Water Supply) উদ্দেশ্যে এই মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয় ভারতের সঙ্গে তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে নতুন কোনও চুক্তি না হওয়ায়। তিস্তা মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য হল বর্ষায় সময়ে প্রস্তাবিত তিস্তা জলাধারে জল ধরে রেছে তা অন্য সময় কাজে লাগানো। উত্তরবঙ্গে ভারত সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশে বহু বছর ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বছরের পর বছর সেখানে চিনাদের উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, মনে করেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। সেখান থেকে ভারতের বহু আলোচিত চিকেন নেক বেশি দূরে নয়। উত্তরবঙ্গে হাসিমারা সামরিক ঘাঁটিও বেশি দূরে নয় (The project may cause a security threat for India in North Bengal and North-East India)। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলা রাজশাহী, রংপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ প্রভৃতি জেলার ভিতর দিয়ে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা
কীভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। বলতে গেলে চিন ও ভারতের মধ্যে এ নিয়ে অদৃশ্য লড়াই চলছিল প্রকল্পটি হস্তগত করতে। একটা পর্যায়ে ভারত ও জাপানের যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়েও কথা হয়।
গত বছর ক্ষমতা হারানোর দিন কয়েক আগে চিন সফর শেষে দেশে ফিরে হাসিনা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন তিনি চান ভারত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করুক। ভারতীয় সেচ ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দলের এর দিন দশ-পনেরোর মধ্যে বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। পরিস্থিতি আমূল বদলে যান ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর।
চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টার চিন সফরে গুরুত্ব পায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা। চিনের সেচ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বেজিংয়ে বৈঠক হয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের। তবে চিনকে প্রকল্পের বরাত দেওয়ার সিদ্ধান্তের পিছনে অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি-র মতামতকেও গুরুত্ব দিয়েছে। মাস কয়েকের ব্যবধানে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দু-দফায় চিন সফর করেছেন। ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা বেজিং যাওয়ার আগে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপি নেতারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পদযাত্রার আয়োজন করেন। দলের শীর্ষ নেতারা সকলেই তাতে অংশ নেন।
পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে অতিসক্রিয়। ভোট হলে বিএনপি-র ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা বেশি ধরে নিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার দলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছেন। জামাত, এনসিপির নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তিনি।
জানা যাচ্ছে বিএনপি নেতা মঈন খান এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরের সফরে তিস্তা নিয়ে কথা হয়। বিএনপি নেতা বেজিংকে আশ্বাস দেন, তারা ক্ষমতায় ফেরার পর দ্রুত তিস্তা প্রকল্প বেজিংয়েক হাতে তুলে দেবেন।