হাসিনাও কৃতজ্ঞতা বশত সেনার বিরুদ্ধে প্রায় এগারো মাস মুখ খোলেননি। গত মাসের ১৬ তারিখ গোপালগঞ্জে সেনার গুলিতে পাঁচ আওয়ামী লিগ কর্মীর মৃত্যুতে তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

শেষ আপডেট: 18 August 2025 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীতেও দলবাজি হয়েছিল বলে বাহিনী এবং বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করে আসছিল। ইতিমধ্যে তাঁদের অনেকেই অবসর নিয়েছেন। সেই সেনা অফিসারদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণে কমিটি গড়ল মহম্মদ ইউনুসের সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এজন্য নয় সদস্যের কমিটি গড়েছে। ওই মন্ত্রক প্রধান উপদেষ্টার হাতে রয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল হাফিজ।
কমিটিতে বাংলাদেশ বিমান ও নৌ বাহিনীর প্রতিনিধিদেরও রাখা হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪-এর ৪ অগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার সময়কালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বহু জওয়ান, অফিসার চাকরি ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্তদের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে। কমিটিকে দু মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাানিক মহল মনে করছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর একাংশের যোগাযোগ, আস্থায় জল ঢালতেই ইউনুস সরকার এই কমিটি গড়ে বাহিনীর ক্ষতে মলম দেওয়ার চেষ্টা করল। গণ-অভ্যুত্থানের দিন বাংলাদেশ সেনার বিমান হাডিনাকে দিল্লি পৌঁছে দেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপদে দেশ ছাড়তে দেওয়ায় সেনাবাহিনীর মধ্যেই ক্ষোভ আছে।
হাসিনাও কৃতজ্ঞতা বশত সেনার বিরুদ্ধে প্রায় এগারো মাস মুখ খোলেননি। গত মাসের ১৬ তারিখ গোপালগঞ্জে সেনার গুলিতে পাঁচ আওয়ামী লিগ কর্মীর মৃত্যুতে তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। মনে করা হচ্ছে এই সন্ধিক্ষণে বঞ্চিত সেনাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বাহিনীর সঙ্গে হাসিনার দূরত্ব চওড়া করার চেষ্টা শুরু করল সরকার।