হাসিনা আরও বলেছেন, আওয়ামী লিগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সর্বদা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। মানুষ ভোট দিলে আছি। নয়তো নাই। ফল যা হবে মেনে নেব। তবে ইউনুস সরকারের অধীনে ভোট হতে পারে না। ভোট হোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

শেষ আপডেট: 16 August 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহম্মদ ইউনুস সরকারকে হটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট করার দাবি তুললেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, আমি পদত্যাগ করিনি। এখনও আমি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তবু দেশবাসীর স্বার্থে চাই, ভোট হোক।
হাসিনা আরও বলেছেন, আওয়ামী লিগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সর্বদা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। মানুষ ভোট দিলে আছি। নয়তো নাই। ফল যা হবে মেনে নেব। তবে ইউনুস সরকারের অধীনে ভোট হতে পারে না। ভোট হোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।
হাসিনার এই দাবি বা প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। এমন সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস। শুধু নির্বাচন পরিচালনার জন্য এমন সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ হাই কোর্টের একটি রায়ে ওই ব্যবস্থাকে সংবিধান বিরোধী বলে আখ্যা দেওয়ার পর হাসিনা সরকার সেটি বাতিল করে। সেই ধারা পুনরায় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ এসেছে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর। হাই কোর্টই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর রায় দিয়েছে। সেই রায় কার্যকর করা হলে ইউনুস সরকারের বিদায় নেওয়ার কথা।
আওয়ামী লিগ নেত্রী কেন তাঁরই বাতিল করা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ভোট চাইছেন? রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তিনি আশা করছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য বিচার্য হবে কে সেই সরকারের প্রধান হবেন এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে।
আওয়ামী লিগের এক নেতার কথায় তাঁরা ইউনুসকে হটানো পাখির চোখ করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি বিএনপির হয়ে কাজ করছে। তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে ইউনুসকে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব নিয়েও আলেচনা চলছে বিএনপির অন্দরে। যদিও এই বিষয়ে দলে তীব্র মতবিরোধ আছে।
শুক্রবার ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে দলের ফেসবুকে ভাষণ দিয়েছেন হাসিনা। ভাষণের একেবার শেষ প্রান্তে এসে তিনি নির্বাচনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশন ওই দলের নিবন্ধন বাতিল করেছে। ফলে আইনত আওয়ামী লিগের ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, যে দলটি দেশ স্বাধীন করল, দেশ গড়ে তুলল তাদের বাদ দিয়ে কী করে নির্বাচন হয়!
আওয়ামী লিগ মনে করছে তাদের বাতিল করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই দলের সুদিন ফেরাতে পারে। এই বিষয়ে প্রথম মুখ খুলেছিলেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আলি আরাফত। মাস পাঁচ-ছয় আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট করার দাবি উত্থাপন করেন। তা নিয়ে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। হাসিনা শুক্রবারের ভাষণে তাতে সিলমোহর দিলেন বলা চলে। আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেন, ইউনুস দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা দরকার।