চিকিৎসকদের বক্তব্য, উদ্দেশ্য মহৎ, তাই হাসপাতালেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হল।
.jpeg.webp)
হাসপাতালেই মালাবদল।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের বেডে শুয়ে এক তরুণ। তাঁর হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ। কোমর নড়াতে পারেন না। উঠে বসা দূরে থাক, অন্যের সাহায্য ছাড়া পাশ ফিরতেও পারেন না। সেই তিনি পুরোদস্তুর বরের পোশাক পরে শুয়ে আছেন। পান পাতায় চোখ ঢেকে তাঁর বিছানা প্রদক্ষিণ করছেন বধূ বেশে তরুণী। সেখানেই উলুধ্বনী আর পুরোহিতের মন্ত্রচ্চারণে সম্পন্ন হল আনন্দ সাহা ও অমৃতা সরকারের।
আনন্দের বাড়ি ঢাকার লাগোয়া মানিকগঞ্জ শহরের চানমিয়া লেনে। অমৃতার বাড়ি মানিকগঞ্জেরই ঘিওরের বানিয়াজুড়ি এলাকায়। মানিকগঞ্জের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালের একটি ঘরে শুক্রবার মালা বদল হয়েছে আনন্দ ও অমৃতার।
হাসপাতালের প্রধান ডা. সিরাজুল ইসলামের কথায়, ‘ছোট আয়োজন। কিন্তু মনেই হল না বিয়েটা হাসপাতালে হল। সবাই খুব আনন্দ পেয়েছি। হাসপাতালের বাকি রোগী ও পরিজনেরাও খুশি।’ বিয়ের ছবি, ভিডিও এখন বাংলাদেশের সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। নববধূকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি অমৃতার সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশবাসী।
আসলে হাসপাতালের বেডে মালা বদলের এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে অমৃতার সিদ্ধান্ত। আনন্দের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক বছর পেরনোয়নি। মাস কয়েক আগে বাইক দুর্ঘটনায় আহত হন আনন্দ। দুটি হাসপাতালে ইতিমধ্যে তাঁর দু’বার অপারেশন হয়েছে। এখন আফরোজা বেগন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে বেশ কয়েক মাস লাগবে। কারণ, আনন্দের একার পক্ষে এক কিছুই করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, তাঁর বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। বাড়িতে তাঁকে শুশ্রূষা করার নেই। তাছাড়া চিকিৎসার জন্যও বেশ কয়েক মাস হাসপাতালে থাকাই সঠিক হবে বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এই পরিস্থিতিতে অমৃতা তাঁর পরিবারকে জানান, তিনি এখনই বিয়েটা সেরে নিতে চান। যাতে হাসপাতালে আনন্দের শুশ্রূষা করতে পারেন। আগে ঠিক ছিল ১৪ ডিসেম্বর আনন্দ-অমৃতার বিয়ে হবে। তবে বিয়ে এগিয়ে আনতে প্রাত্রীর প্রস্তাবে সায় দেয় দুই পরিবারই। তবে বাকি রোগীদের সমস্যা হবে মনে করে হাসপাতালের কর্তারা প্রথমে প্রস্তাবে সায় দেননি। পরে তাঁরাও মত বদল করেন। চিকিৎসকদের বক্তব্য, উদ্দেশ্য মহৎ, তাই হাসপাতালেই বিয়ের ব্যবস্থা করা হল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিয়ের জন্য একটি বড় হল ঘর বরাদ্দ করেন। সেখানেই মালাবদলের সময় হাজির ছিলেন পাত্র-পাত্রীর বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনেরা। আনন্দের খুড়তুতো দাদা অমি সাহা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের পুরো সুস্থ হতে সময় লাগবে, কিন্তু তার দেখাশোনা করার জন্যও কারও পাশে থাকা প্রয়োজন। নতুন বৌদি এবং ভাই দুজনই একে অপরের পাশে থাকতে চায়। মূলত এ কারণেই বিয়ের তারিখ কিছুটা এগিয়ে ধর্মীয় নিয়ম মেনে স্বল্প পরিসরেই তাদের বিয়ে দেওয়া হল।