মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনাকে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেলাতে দেয়নি। বরং তাদের স্পষ্ট কথা - এটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

অমৃত মণ্ডল
শেষ আপডেট: 26 December 2025 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজবাড়ি জেলায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ ঘিরে গণপিটুনিতে (Mob Lynching) মৃত্যু হয়েছে এক হিন্দু যুবকের। বুধবার গভীর রাতে পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম অমৃত মণ্ডল (Amrit Mondal), স্থানীয়ভাবে যিনি ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত ছিলেন।
মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনাকে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের (Dipu Chandra Das) সঙ্গে মেলাতে দেয়নি। বরং তাদের স্পষ্ট কথা - এটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়। যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
কে ছিলেন অমৃত মণ্ডল
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সি অমৃত মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় দুষ্কৃতীমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাংশা থানায় অন্তত দুটি মামলা ছিল, যার মধ্যে একটি খুনের মামলাও রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির বাংলা দৈনিকগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, অমৃত নিজের নামেই একটি দল গড়ে তুলেছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কাজের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সেলিমের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে একের পর এক হিংসার ঘটনা
এই ঘটনার দিনই ঢাকায় আরেকটি হিংসাত্মক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। রাজধানীর একটি ফ্লাইওভারের নীচে চায়ের দোকানে বসে থাকা এক যুবকের দিকে বোমা ছোড়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।
এর আগেও গত সপ্তাহে ২৭ বছরের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর দেহ গাছে বেঁধে আগুন লাগানো হয় বলেও অভিযোগ। এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি ঢাকার শাহবাগে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ওসমান হাদির মৃত্যুর পর একাধিক এলাকায় অশান্তি ছড়ায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, এই সমস্ত ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে।
যদিও এইসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার কঠোর নিন্দা জানায়। সরকার সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায়, যে কোনও ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার কোনভাবেই সমর্থন করে না। এ ঘটনায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
একইসঙ্গে সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসদুদ্দেশ্য প্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।