তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে কম্বোডিয়া। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, ২০১৪ সালে নির্মিত বিষ্ণু মূর্তিটি কম্বোডিয়ার আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে। তাঁর দাবি, এটি বৌদ্ধ ও হিন্দু - উভয় ধর্মাবলম্বীর কাছেই উপাসনার স্থান ছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2025 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে (Thailand-Combodia Border) বিষ্ণু মূর্তি (Vishnu Statue) ভাঙাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর অবশেষে অবস্থান স্পষ্ট করল থাইল্যান্ড (Thailand)। থাই কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কাঠামোটি কোনও নথিভুক্ত ধর্মীয় স্থান ছিল না এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই (Security) সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, থাই সেনাবাহিনী বিষ্ণু মূর্তিটি (Vishnu Statue) গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এর পরেই বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার থাই–কম্বোডিয়া সীমান্ত (Thailand-Combodia Border) সংক্রান্ত প্রেস সেন্টার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, মূর্তি ভাঙার সিদ্ধান্ত ধর্ম, বিশ্বাস বা কোনও পবিত্র সত্তার প্রতি অসম্মান নয়, বরং এলাকা ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপের অংশ।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের আওতায় এবং থাই সেনা (Thailand Army) সেখানে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সেই কারণেই ওই কাঠামো সরানো হয়েছে।
তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে কম্বোডিয়া। তাঁদের পাল্টা বক্তব্য, ২০১৪ সালে নির্মিত বিষ্ণু মূর্তিটি কম্বোডিয়ার আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে। তাঁর দাবি, এটি বৌদ্ধ ও হিন্দু - উভয় ধর্মাবলম্বীর কাছেই উপাসনার স্থান ছিল।
থাই কর্তৃপক্ষ যদিও পাল্টা দাবি করেছে, বিতর্কিত চং আন মা সীমান্ত এলাকায় কম্বোডিয়ার সেনারাই ওই মূর্তিটি বসিয়ে ‘অবৈধ ভাবে সার্বভৌমত্ব দাবি’র চেষ্টা করেছিল। থাইল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতিই তারা শ্রদ্ধাশীল এবং এই ঘটনায় কোনও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে তার জন্য তারা দুঃখপ্রকাশ করেছে।
এর মধ্যেই বুধবার ভারত সরকার এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চলমান সীমান্ত সংঘাতের প্রেক্ষিতে এমন ‘অসম্মানজনক’ ঘটনা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এ ধরনের কাজ হওয়া উচিত নয়।
ভারত দুই দেশকেই সংযম দেখানোর পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও, চলতি মাসে ফের সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়েছে।