শলা-পরামর্শ না করেই সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগ কতটা ভ্রান্ত তা স্পষ্ট হয়ে যায় অতীতের দিকে তাকালে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং প্রাসঙ্গিক সমস্ত পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পরেই তৈরি হয়েছে এই বিল। গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় – গ্রামীণ পরিকল্পনার কাঠামো, সমন্বয় প্রক্রিয়া কিংবা ডিজিটাল প্রশাসন প্রণালী – সব বিষয়েই রাজ্যগুলির মতামতের ওপর ভিত্তি করে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিবরাজ সিং চৌহান
শেষ আপডেট: 25 December 2025 11:57
বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫-এ সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি (President)। এর সুবাদে গ্রামীণ এলাকায় কর্মপ্রার্থীদের বিধিবদ্ধ মজুরির ভিত্তিতে আরও বেশি- ১২৫ দিন কাজ পাওয়া নিশ্চিত। দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের পালে হাওয়া লাগিয়ে শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর গ্রামীণ ভারত নির্মাণের দিশায় এ এক বড় পদক্ষেপ।
ভুল ব্যাখ্যা
ভিবি - জি রাম জি (VB GramG) আইন নিয়ে কয়েকটি মহল থেকে পূর্বানুমানের ভিত্তিতে, গোটা বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা না করেই নানান মন্তব্য করা হচ্ছে। কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা কার্যত কমেছে, বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ এবং চাহিদাভিত্তিক কাজের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে শলা-পরামর্শ না করেই, কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের নামে আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার – উঠে আসছে এমন নানা অভিযোগ। এইসব মন্তব্য আইনটির মূল বিষয় এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল বোঝার ফল।
এই ভ্রান্তির মূলে রয়েছে গভীরভাবে প্রোথিত একটি ভুল ধারণা – যা ভাবতে শেখায় যে কল্যাণমূলক এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মধ্যে বিরোধ আছে। নতুন আইনগত কাঠামোটি কিন্তু দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই ভুল ধারণার ঠিক বিপরীত মেরুতে : অর্থাৎ বিধিবদ্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে জীবিকার নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে মানবকল্যাণ এবং স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিকাশের উদ্যোগ আসলে পরস্পরের পরিপূরক। আয় সহায়তা, সম্পদসৃজন, কৃষিক্ষেত্রে সুস্থিতি এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রামীণ উৎপাদনশীলতার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে, বিষয়গুলি আদৌ বিচ্ছিন্ন নয়। বাগাড়ম্বর নয় – বিধিবদ্ধ কাঠামোর ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট পথে এগোনো হল মূল কথা।
কাজের অধিকার খর্ব হয়েছে?
এমন দাবি পুরোপুরি ভুল। নতুন আইনে কর্মনিশ্চয়তার বিধিবদ্ধ এবং আইনগত দিকগুলি অটুট। পাশাপাশি তার প্রয়োগ আরও কার্যকর করার দিশা রয়েছে। কর্মপ্রাথীদের কাজ পাওয়ার অধিকার খর্ব করা তো হয়ইনি, বরং ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ মিলবে। প্রণালীগত যেসব বিষয়ের জেরে আগে বেকার ভাতা বাতিল হতো তা দূর করা হয়েছে। চালু করা হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাবতীয় অভিযোগের নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। আইনগত এই পরিবর্তন আনা হয়েছে প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ফারাক দূর করার জন্য।
আরও বলা হচ্ছে যে কর্মীর চাহিদা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার পাট চুকিয়ে ওপর থেকে সবকিছু চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এই বক্তব্যের পেছনেও রয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করার ভুল প্রবণতা। কর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছেই। বরং কর্মী কাজের দাবি জানানোর পর তবেই তা মেটানো হবে – সেই গড়িমসি না করে আগেই সব ব্যবস্থা হয়ে থাকবে। অংশগ্রহণ ভিত্তিক গ্রামস্তরীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, কর্মী যখন কাজ চাইবেন তৎক্ষণাৎ সেই চাহিদা পূরণ হবে, প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাবজনিত বিলম্ব হবে না। কাজেই এই পরিকল্পনার চাহিদাকে চেপে দেবে না; তা পূরণ হবে কার্যকরভাবে।
ওপর থেকে সবকিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে যারা অভিযোগ তুলছেন তাঁরা আইনটির মূল কাঠামোর দিকেই তাকাচ্ছেন না। প্রাথমিক স্তরে পরিকল্পনা এবং রূপায়ণের দায়িত্ব থাকছে গ্রাম পঞ্চায়েতেরই হাতে। সেই পরিকল্পনায় অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকছে গ্রামসভারই হাতে। যা পাল্টাচ্ছে তা হল – বিকেন্দ্রীকৃত পরিকল্পনা এখন থেকে আর অস্থায়ী বা বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড হয়ে থাকবে না, সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং অংশগ্রহণমূলক প্রণালীর সূচনা হচ্ছে। বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা সংযুক্ত হচ্ছে ব্লক, জেলা এবং জাতীয় স্তরে। এর ফলে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়বে। স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকারকে কোনওভাবেই অবহেলা করা হবে না। কেন্দ্রীয় স্তরে সমন্বয়ের কাজটুকুই হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকছে স্থানীয় স্তরেই। সমতাভিত্তিক বিকেন্দ্রীকৃত প্রক্রিয়ায় কোনও আঘাত না হেনে বিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের সমস্যা দূর করার সংস্থান রয়েছে এই আইনে।
শলা-পরামর্শ না করেই সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগ কতটা ভ্রান্ত তা স্পষ্ট হয়ে যায় অতীতের দিকে তাকালে। বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং প্রাসঙ্গিক সমস্ত পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার পরেই তৈরি হয়েছে এই বিল। গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় – গ্রামীণ পরিকল্পনার কাঠামো, সমন্বয় প্রক্রিয়া কিংবা ডিজিটাল প্রশাসন প্রণালী – সব বিষয়েই রাজ্যগুলির মতামতের ওপর ভিত্তি করে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দে বৃদ্ধি, সমতার উদ্যোগ
কর্মনিশ্চয়তার দিকটি বিগত দশকে ধারাবাহিকভাবে অবহেলিত হয়েছে বলে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যাদির কোনও সামঞ্জস্য নেই। বাজেট বরাদ্দ ২০১৩-১৪-য় ছিল ৩৩,০০০ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫-এ তা দাঁড়িয়েছে ২,৮৬,০০০ কোটি টাকায়। ২০১৩-১৪ পর্যন্ত তৈরি হওয়া কর্ম দিবসের সংখ্যা যেখানে ১,৬৬০ কোটি, সেখানে পরবর্তীতে তৈরি হয়েছে ৩,২১০ কোটি কর্মদিবস। কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে মঞ্জুরির পরিমাণ ২.১৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ১৫৩ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৬২ লক্ষ। মহিলাদের অংশগ্রহণের হার ৪৮% থেকে বেড়ে ৫৬.৭৩% হয়েছে। তহবিল হস্তান্তর সম্পর্কিত নির্দেশের ৯৯% প্রেরিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে। সংক্রিয় কর্মীদের প্রায় ৯৯% সংযুক্ত হয়েছেন আধার পেমেন্ট ব্রিজে। এই বিষয়গুলি অবহেলা নয়, দায়বদ্ধতার প্রমাণ।
তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, আগেকার ঘটনাভিত্তিক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ক্ষেত্রে বেশকিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। বেকারভাতা প্রদানের প্রক্রিয়ায় অদক্ষতা, বিচ্ছিন্নভাবে সম্পদসৃজন এবং বেআইনীভাবে ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনৈতিক ক্রিয়াকর্মও ছিল বড় এক সমস্যা। খরার বছরগুলিতে, কোভিড ১৯ অতিমারির সময় বিপুল মাত্রায় পরিযান বাস্তব পরিস্থিতির বেহাল চিত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে।
নতুন আইনের আওতায় যে আর্থিক পুনর্গঠনের সংস্থান রয়েছে তাকে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া বলে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান ক্রমবর্ধমান-৮৬,০০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২,৯৫,০০০ কোটি টাকায়। ৬০:৪০ অর্থসংস্থানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সহায়তা পুষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে বহুদিন থেকেই চালু রয়েছে। হিমালয় সন্নিহিত রাজ্য এবং জম্মু কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৯০:১০। কাজেই টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাত ঝেড়ে ফেলা নয়, নতুন আইনী কাঠামো সম্মিলিত দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেই তুলে ধরেছে।

নিয়মানুগ, পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্থায় সমতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দ নির্দিষ্ট হবে বিধিতে বর্ণিত মানদণ্ড অনুযায়ী। রাজ্যগুলিকে শুধুমাত্র রূপায়ণকারী সংস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তাদের বিকাশের অংশীদারের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বিধিবদ্ধ কাঠামোর মধ্যে নিজেদের প্রকল্প চালু করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাদের। সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা পুরমাত্রায় অটুট : প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা অন্য যেকোনও ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাজ্যগুলি বিশেষ ছাড়ের সুপারিশ করতেই পারে – তা সে কাজের ক্ষেত্রে কিংবা কর্মসংস্থানে পরিবর্ধন, যাই হোক না কেন। সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিকটি সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনের বলে রাজ্যগুলি অগ্রিম ভিত্তিতে, একটি অর্থবর্ষে শস্য বপণ এবং ফসল তোলার সময় মিলিয়ে মোট ৬০ দিন নির্দিষ্ট করে দিতে পারে - যে সময়টুকুতে কাজ হবে না। চাষবাসের রীতি এবং জলবায়ু অনুযায়ী জেলা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে আলাদা আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করাও যেতে পারে। কৃষিকাজের সময়ের কথা মাথায় রেখে আরও বেশি কাজের নিশ্চয়তাকে যাতে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় সেজন্যই এই সংস্থান রাখা হয়েছে।
ইউপিএ-র কাজকর্মের খতিয়ান
মেয়াদের একেবারে শুরু থেকেই এমজিনারেগার ক্ষেত্রে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের কথায় ও কাজে বিস্তর ফারাক পরিলক্ষিত। কংগ্রেসের ইস্তেহারে 'দৈনিক ১০০ টাকার প্রকৃত মজুরিতে ১০০ দিনের কাজ'-এর প্রতিশ্রুতি ছিল। ২০০৯-এ ওই সরকার দৈনিক মজুরি ১০০ টাকায় বেঁধে দেয়, মুদ্রাস্ফীতি কিংবা গ্রামাঞ্চলের বেহাল দশার তোয়াক্কা না করেই। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার খোলাখুলি স্বীকার করে নিয়েছিল যে রাজ্যগুলি এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে খেয়াল খুশি মতো কাজ করছে। কাজেই 'ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়ায়' মজুরির উর্ধসীমা নির্দিষ্ট করা জরুরি। এই স্বীকারোক্তি তাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ: কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্যগুলিকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে অপব্যবহার, ভুয়ো জব কার্ড এবং আর্থিত অপচয়ের সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে এমজিনারেগাকে ঘিরে।
ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এই প্রকল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। বাজেট বরাদ্দ ২০১০-১১-র ২,৪০,১০০ কোটি টাকা থেকে কমে ২০১২-২০১৩-য় হয় ৩৩,০০০ কোটি টাকা। অথচ রাজ্যগুলির তরফে চাহিদা ছিল উর্ধমুখী। ২০১৩ সালে সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী রাজীব শুক্লা স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে এমজিনারেগার আওতায় নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা ২০১০-১১-র ৭.৫৫ কোটি থেকে কমে ২০১৩-র নভেম্বরে ৬.৯৩ কোটি হয়ে গিয়েছিল। মঞ্জুরিতে বিলম্ব, মজুরি প্রদানে স্বচ্ছতার অভাব, প্রশাসনিক উদাসীনতার জেরে মানুষ কাজ দাবি করার উৎসাহটুকুও হারিয়ে ফেলছিলেন। আইনটির মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিল।
কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের ২০১৩ সালের প্রতিবেদন ইউপিএ জমানায়
এমজিনারেগার বেহাল দশা বেআব্রু করে দেয়। সেখানে লাগাম ছাড়া দুর্নীতি এবং অব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। ভুয়ো কিংবা ভুল জব কার্ডের সংখ্যা ছিল ৪.৩৩ লক্ষের বেশি। হিসাব বহির্ভূতভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া, অনিয়মিত কাজ, দেরিতে মজুরি প্রদান, অর্ধেকের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে নথি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অদক্ষতা-ইত্যাদি নানা বিষয় ওঠে এসেছিল ওই প্রতিবেদনে। ২৩টি রাজ্যের ক্ষেত্রেই ছিল এই চিত্র। গ্রামে দারিদ্র যেখানে সর্বাধিক-সেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে বরাদ্দ অর্থের মাত্র ২০% কাজে লাগানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের পক্ষ থেকে।
মানব কল্যাণ এবং উন্নয়নের মধ্যে যেকোন একটিকেই বেছে নিতে হবে-এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। জীবিকার নিশ্চয়তার মাধ্যমে কল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং গ্রামে স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণ ও উৎপাদনশীলতার মন্ত্রে চালিত বিকাশের উদ্যোগের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই, বরং দুটি বিষয় পরস্পরের পরিপূরক। অদক্ষ কোনও কাঠামোকে ভেঙে ফেলা উচিত না তাকে সংস্কার করে আধুনিক, প্রয়োগযোগ্য এমন এক কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের সূচনা করা উচিত-যাতে মানবকল্যাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুগপৎভাবে; প্রশ্ন সেখানেই। নতুন আইন কাজের আইনী অধিকার সংরক্ষিত রেখেছে, কর্মীদের প্রাপ্য বৃদ্ধি করেছে, কর্মীর সুরক্ষা জোরদার করেছে এবং বছর বছর ধরে রূপায়ণের ক্ষেত্রে যেসব খামতি স্পষ্ট হয়েছে তা দূর করেছে। এই পদক্ষেপ ধ্বংসাত্মক নয় একেবারেই, আসলে তা হল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পুনর্নবীকরণের উদ্যোগ।
লেখক, ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী। মতামত ব্যক্তিগত।