দিঘায় একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উপ দূতাবাসের প্রেস সচিব তারিক চয়ন এই প্রেক্ষাপটে দু'দেশের সম্পর্ককে দৃষ্টান্তমূলক করে তোলার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি বা যে কোনও সৃজনশীল বিষয়কে পরিমাণ দিয়ে নয়, গুণমান দিয়ে বিচার করা উচিত। পাশাপাশি, তিনি দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

শেষ আপডেট: 31 March 2026 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় আরও ভাল হতে পারে। এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন কলকাতায় কর্মরত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব (Press Secretary of the Bangladesh Deputy High Commission) তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, (Tarikul islam bhuiyan) ওরফে তারিক চয়ন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'ভারতে অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে কি না। আমি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করি—আগের মতোই কেন থাকবে? পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান বজায় রেখে কেন সেই সম্পর্ক আগের চেয়েও ভাল হতে পারে না?'
বাংলাদেশে গত মাসের ১৭ তারিখ ক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি (BNP) জোট সরকার। এই সরকারের মেয়াদ এখনও দেড় মাস পেরোয়নি। এরই মধ্যে কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ঘিরে দু'দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের নয়া সরণি উন্মোচিত হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করে তাঁকে চিঠি লিখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। জবাবি চিঠিতে তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা ও দিল্লি একত্রে কাজ করে দু'দেশের কল্যাণে অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দু দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা। তারেক রহমানের মা মরহুমা খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের তরফে স্বয়ং বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত থেকে দু'দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জোরালো বার্তা দেন। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে শোক পুস্তিকায় ভারতের তরফে শোক নথিভুক্ত করতে গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আর গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দিল্লিতে হাইকমিশন অফিসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। এছাড়া সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে বিশিষ্টজনেরা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে আন্তরিকভাবে অংশ নেন। সেই অনুষ্ঠানের ভাষণে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন। সেই সঙ্গে তারেক রহমানের তরফে ভারতের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিও উত্থাপন করেন হাইকমিশনার।
এর পাশাপাশি চলতি জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত। নিকট ভবিষ্যতে আরো জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল মনে করছে এর সবই আসলে দু'দেশের তরফে সম্পর্ককে পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে অনন্য উচ্চতায় স্থাপনের চেষ্টা।
দিঘায় একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উপ দূতাবাসের প্রেস সচিব তারিক চয়ন এই প্রেক্ষাপটে দু'দেশের সম্পর্ককে দৃষ্টান্তমূলক করে তোলার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি বা যে কোনও সৃজনশীল বিষয়কে পরিমাণ দিয়ে নয়, গুণমান দিয়ে বিচার করা উচিত। পাশাপাশি, তিনি দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।