বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ হয় মাইলস্টোন স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গন, ঢাকা সচিবালয় এবং হাসপাতালগুলির বাইরে। কলেজে নয় ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় দুই উপদেষ্টাকে। বেশি রাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে উপদেষ্টাদের ঘেরাও মুক্ত করে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 July 2025 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (Bangladesh Air Force) যে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে সেটির নিহত পাইলট মহম্মনদ তৌকির আহমেদ (dead pilot Md Tauqir Islam) কি আওয়ামী লিগ (Awami League) তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Ex PM Sheikh Hasina) দোসর ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনা কি ক্ষমতাচ্যুত শাসক দল আওয়ামী লিগের ষড়যন্ত্র?
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের একটি বৈঠকের পর বিদ্রুপ, কটাক্ষ করে অনেকেই সমাজমাধ্যম-সহ নানা জায়গায় এমন প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, বিমান বিধ্বস্ত হওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা এই বৈঠকে ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে কার্যত কোনও আলোচনা হয়নি। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭৩জন।
কিন্তু বৈঠকে আলোচনা ঘুরে যায় সরকার ও বিভিন্ন দল মিলে কীভাবে আওয়ামী লিগকে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে। যেমন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যে ঐক্য আছে, সেটা আরও বেশি দৃশ্যমান হলে ভাল হয়। আপনারা ফ্যাসিবাদবিরোধী কোনও প্রশ্নে হোক বা গঠনমূলক কোনও কর্মসূচিতে যদি একসঙ্গে থাকেন এবং সেটা যদি মানুষ দেখে, তাহলে মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তির ভাব আসবে। এটা দেখে অনেক বেশি মানুষ খুশি হবে এবং দেশের মানুষ সেটা চায়।’

বিএনপি-জামাত-এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউনুস
জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির যথারীতি নির্বাচন নিয়ে সরব হন। তাঁর কথায়, চলতি অস্থিরতার অবসানে একমাত্র উপায় নির্বাচন। যতদ্রুত নির্বাচন হয় ততই মঙ্গল। একাধিক সূত্রের খবর, আওয়ামী লিগকে মোকাবিলায় উপস্থিত নেতারা সরকারকে আরও কঠোর হতে পরামর্শ দেন। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। জানান, গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার জন্য তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তাঁরা আরও বলেছেন, সরকারের উচিত প্রশাসনকে আরও কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখা।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় তাঁর বাসভবন যমুনায় প্রথমসারির কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে আলোচনায় ডেকেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। মূল আলোচ্য ছিল ঢাকার উত্তরায় বিমানবাহিনীর বিমান ভেঙে পড়ে বহু মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৩১জন মারা গিয়েছেন। মৃতদের বেশিরভাগই স্কুল পড়ুয়া শিশু। বিমানটি ভেঙে পড়ে মাইলস্টোন নামে একটি স্কুল ও কলেজ বিল্ডিংয়ের উপর।
ওই নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। আশ্চর্যের হল, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে সরকারি ওই বৈঠকে শোক পালন করে কোনও প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। হয়নি নীরবতা পালন। যদিও নেতাদের ডাকা হয়েছিল, গোপালগঞ্জের ঘটনা এবং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনার জন্য।
বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ হয় মাইলস্টোন স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গন, ঢাকা সচিবালয় এবং হাসপাতালগুলির বাইরে। কলেজে নয় ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় দুই উপদেষ্টাকে। বেশি রাতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে উপদেষ্টাদের ঘেরাও মুক্ত করে। দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে সেনাবাহিনীর অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধেও।
ঘটনা হল, বৈঠকে এই সব বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। আহতদের উন্নত চিকিৎসার প্রসঙ্গই পারেননি বিএনপি, জামাত, এনসিপি নেতারা। মৃতের সংখ্যা নিয়ে অভিভাবকদের প্রশ্ন, সংশয় নিয়েও কথা হয়নি। এমনকী ঢাকার মতো জনবহুল এলাকার উপর দিয়ে যুদ্ধ বিমান চালানো নিয়ে জনক্ষোভের প্রসঙ্গও তোলেননি কোনও নেতা। বৈঠকে বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, জামাতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ হাজির ছিলেন। ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলি আকন ও যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ। সমাজমাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, সরকার ও উপস্থিত দলগুলি মনে করে সেই বিমানের পাইলটও আওয়ামী লিগ তথা হাসিনার দোসর ছিলেন। তাঁকেও ফ্যাসিবাদীদের লোক মনে করা হচ্ছে। যেন সরকারকে বিব্রত করতেই তিনি বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল-কলেজ বিল্ডিংয়ের উপর গিয়ে পড়েছিলেন।
বৈঠকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি দু-চার কথা আলোচনার পর গোপালগঞ্জ নিয়ে কথা শুরু হয়। গত ১৬ জুলাই সেখানে সেখানে গুলিতে আওয়ামী লিগের পাঁচজন নেতা-কর্মী খুন হন। সেখানে সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা, নির্বিচারে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর সেই জেলা শহরের ছয় হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনী। ইউনুসের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। আওয়ামী লিগের প্রতিরোধের নিন্দা করে ফ্যাসিবাদের জাগরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউনুস ও নেতারা।