Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

বছর পেরনোর আগে ঢাকায় অন্য জুলাই, সেনা বিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা, লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড

পথে থেকে আন্দোলনকারীদের ভাঙচুর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা আটকাতে হাত গুটিয়ে ছিল সেনাবাহিনী। ওয়াকার উজ জামানের বাহিনী তখন দেশবাসীর চোখে ছিল হিরো, দেশপ্রেমিক সেনা।

বছর পেরনোর আগে ঢাকায় অন্য জুলাই, সেনা বিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা, লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড

বছর পেরনোর আগে ঢাকায় অন্য জুলাই

শেষ আপডেট: 22 July 2025 17:44

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুলাই আন্দোলন তথা বিপ্লবের বর্ষপূর্তির এখনও আট দিন বাকি। এরই মধ্যে বিমান দুর্ঘটনাকে (Dhaka Air Force Jet Crash) কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। গত বছর এই সময় কোটা বিরোধী আন্দোলনের জেরে উত্তাল ছিল ঢাকা-সহ একাধিক শহর। শহরের রাস্তা জুড়ে একদিকে ছিল পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ। মুহুর্মুহ চলছিল গ্যাস, গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড। সেই কাজে বেশি সক্রিয় ছিল পুলিশ।

অন্যদিকে, পথে থেকেও আন্দোলনকারীদের ভাঙচুর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা আটকাতে হাত গুটিয়ে ছিল সেনাবাহিনী। ওয়াকার উজ জামানের বাহিনী তখন দেশবাসীর চোখে ছিল হিরো, দেশপ্রেমিক সেনা।

এক বছরের মাথায় মঙ্গলবার ২২ জুলাইও ঢাকার রাস্তা অগ্নিগর্ভ। চলছে লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড। তবে ভিন্ন কারণে। পুলিশকে মারমুখী হতে হয়েছে সেনাবাহিনীকে।জনরোষ থেকে রক্ষা করতে।সেনাবাহিনীকে দেখলেই তেড়ে যাচ্ছে স্বজন হারানো এবং শোকাগত মানুষ। সোমবার ১৯ জনের মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছিল সেনা। মঙ্গলবার আরও ১২ জন মারা গিয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু। এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ। তাঁরা চলতি পরিস্থিতির জন্য ইউনুস সরকারকেই দায়ী করেছে। গত বছর এই সময় ঢাকার রাস্তায় এই ছাত্র সংগঠনই ছিল সবচেয়ে আক্রান্ত। জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় তাদের।

সোমবার সেনা বিমান দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সরকারের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে সেনাবাহিনীর অতিসক্রিয়তার কারণে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও দফায় দফায় সেনা বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী ঢাকা। সোমবার বিকালে দুর্ঘটনাস্থল ঢাকার মাইলস্টোন কলেজে সেনা জওয়ানদের দাদাগিরি, উদ্ধারের কাজ থেকে স্থানীয় মানুষকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভে শামিল হয় ছাত্র, অভিভাবক, স্থানীয় মানুষ।

সেনার পাশাপাশি উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ চলছে ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ের সামনে পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের তুমুল বিক্ষোভ চলছে। জনতার দাবি, অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আইন, শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি আগেই উঠেছে। আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টা মাইলস্টোন কলেজে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

প্রেস উইংয়ের বিরুদ্ধে মৃতের সংখ্যা আড়াল করার অভিযোগে সরব মানুষ। সোমবার থেকেই মৃতের সংখ্যা আড়াল করার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সরব হয়েছে আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র লিগ। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজের উপর বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অসংখ্য শিশুর প্রাণ হারানোর মর্মান্তিক ঘটনা পরবর্তীতে অথর্ব-অবৈধ ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর দখল ও দুর্নীতির কারণে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন হল জাতিকে।

আহত শিশুদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা প্রদানে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। চিকিৎসার অপ্রতুলতা, চিকিৎসাদানে বিঘ্ন সৃষ্টি, রাজনৈতিক নেতাদের শোডাউন, পর্যাপ্ত রক্ত সংগ্রহে ব্যর্থতা প্রভৃতি কারণে লাশের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ অপরিমেয় হচ্ছে। আহত শিশু ও তার অভিভাবকের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারি হচ্ছে।

এদিকে নিহত শিশুর সংখ্যা গোপন, সঠিক তথ্য প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধাদান, সংবাদমাধ্যমের উপর বিধিনিষেধ আরোপ, শিশুদের মা-বাবা-ভাই-বোনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ মানুষের শোক-উদ্বেগকে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।

আওয়ামী লিগ সরকার সংকট মোকাবিলায় ধারাবাহিকভাবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। দূর্যোগ, দূর্ঘটনা কিংবা কোভিড মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও গণমুখী সৃজনশীল প্রয়াস তাকে জনগণের বিশ্বস্ত 'ক্রাইসিস ম্যানেজার' হিসেবে পরিণত করেছিল। অথচ আজ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ আহত শিশুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তার মাধ্যমে সেখানে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারেনি রক্তখেকো ইউনূস সরকার। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোকে রাজনৈতিক কার্যালয়, রিসোর্ট, অফিস বানিয়ে, দখল-দুর্নীতি করে, চিকিৎসকদের হামলা-মামলা করে, কর্মজীবন কেড়ে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতেও হামলায় মৃত্যুর শঙ্কাকে উপেক্ষা করে ছাত্র লিগের কর্মীরা ছুটে গেছে রক্ত দিতে। নিজে আহত হয়েও শিশুদের রক্ত দিয়েছে, অভিভাবকদের তথ্য দিয়েছে, সেবা দিয়ে পাশে থেকেছে। এটি আমাদের শক্তি। এই শক্তি দিয়েই আমরা বাংলাদেশকে আবারও সকল শিশুর জন্য নিরাপদ বাসস্থানে পরিণত করবো।


```