বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে করলে তা অর্থহীন হবে বলে মনে করেন ব্রিটেনে লেবার পার্টির চার এমপি।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 24 December 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন (Bangladesh Election) আওয়ামী লীগকে (Awami Leauge) বাদ দিয়ে করলে তা অর্থহীন হবে বলে মনে করেন চার ব্রিটিশ এমপি। এঁরা হলেন বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল ও ক্রিস ল’। তাদের মধ্যে বব ব্ল্যাকম্যান হলেন কনসেরভেটিভ পার্টির এমপি। স্কটিস ন্যাশনাল পার্টির এমপি হলেন ক্রিস ল। আইরিশ ন্যাশনাল ইউনিয়নিস্ট পার্টির সংসদ জিম শ্যানন। অন্যদিকে, জাস আথওয়াল হলেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি।
মঙ্গলবার তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যখন দেশটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে এগোচ্ছে। ওই সময়েই গত বছর শেখ হাসিনার উৎখাতের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সকল সুবিবেচক মানুষই আশা করেন যে এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে অবদান রাখবে।তবে তা তখনই সম্ভব হবে, যদি নির্বাচনটি সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহণমূলক হয় এবং সম্ভব হলে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা অনুমোদিত হয়। বর্তমানে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা রাজনৈতিক দলগুলির (করুন আওয়ামী লিগ ও তাদের সহযোগী দল) ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের নির্দেশনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের অন্যান্য দীর্ঘদিনের মিত্রদের পরামর্শকেও উপেক্ষা করছে।
স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া লক্ষ লক্ষ সাধারণ বাংলাদেশি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং অনেকেই একেবারেই ভোট দেবেন না। সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। চার ব্রিটিশ এমপি বলেছেন মোহাম্মদ ইউনুস এর অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই অনির্বাচিত। এই সরকারের বাংলাদেশের ভোটারদের ওপর এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত হয়নি।
দেশটির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই তীব্রভাবে মেরুকৃত। এ জন্য বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে দায়ী। কিন্তু জাতীয় পুনর্মিলন অর্জন করতে—এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আবার সঠিক পথে ফেরাতে—যে কোনো ভবিষ্যৎ সরকারকে জনগণের প্রকৃত সম্মতির ভিত্তিতে শাসন করতে হবে। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের একটি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে বিরোধী দলগুলো গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হলো যুক্তরাজ্য। সে প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটক, বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদনগুলি পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমরা ব্রিটিশ সরকারসহ জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা ড. ইউনুসকে গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি তাঁর অঙ্গীকার রক্ষা, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখে।