পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসক বলেন, নিহতের পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

শেষ আপডেট: 23 December 2025 08:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়মনসিংহের ভালুকায় গণপিটুনিতে (Mymensingh mob lynching) নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়াল স্থানীয় প্রশাসন (Dipu Das family aid District administration)। সোমবার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামে নিহতের বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীপুর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দীপুর স্ত্রী মেগনা রানিকে চাকরির আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা নগদ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে শীতের বস্ত্র, শুকনো খাবার এবং একটি সেলাই মেশিন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসক বলেন, নিহতের পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
দীপু দাসের বাবা রবি চন্দ্র দাস জানান, দীপুই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম অবমাননার কোনও বিষয় থাকলে আইনি পথেই বিচার হওয়া উচিত ছিল। “আমরা গরিব বলেই ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। ছেলের হত্যার বিচার চাই,” বলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, দীপু গত দু’বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কারখানার সুপারভাইজাররা (Factory Supervisers) প্রথমে দীপুকে জোর করে পদত্যাগ করান। এরপর কোনও আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁকে কারখানা চত্বরের বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়। সেখানেই অপেক্ষা করছিল একদল উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ, ওই জনতাই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর তাঁর দেহ ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কের একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে দেহে আগুন ধরানো হয়। স্থানীয় সূত্রে দাবি, কারখানার কয়েকজন কর্মী (Factory Workers) অর্থাৎ দীপুর সহকর্মীরাও হামলাকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল।
প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে রবিবার বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, দীপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোনও প্রমাণ মেলেনি। তিনি কোনও উস্কানিমূলক মন্তব্যও করেননি।
তদন্তকারীদের একাংশের মতে, পুরো ঘটনা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধাপে ধাপে ঘটেছে। চাকরি ছাড়ানো থেকে শুরু করে পুলিশে দেরিতে খবর দেওয়া এবং শেষে পরিকল্পিতভাবে দীপুকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া - এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে দেয়, এটি তাৎক্ষণিক হিংসা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ঘটনা।