ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সরকারের বর্ষপূর্তির সময় নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগের মাঝে মার্কিন শুল্কের হার কমিয়ে ইউনুস বড় জয় হাসিল করলেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 1 August 2025 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ দিনের মাথায় ৫, অগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি। তার তিনদিন পর ৮ অগস্ট ইউনুস সরকারের এক বছর পূর্তি। এই সময় বাংলাদেশ ও প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে (Md Yunus) খুশি করে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বাংলাদেশের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক ১৫ শতাংশ কমিয়ে দিলেন (reduced 15 tariff on Bangladeshi products) তিনি। আগে মার্কিন প্রশাসন অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল। এখন অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে ২০ শতাংশ হারে।
আগে ৩৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোয় বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতিতে গুরুতর ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা ছিল। বিশেষভাবে মার খেত দেশটির 'আর্থিক মেরুদণ্ড' পোশাক শিল্প। ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিয়ে আমেরিকার পোশাক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হত। বাংলাদেশের বাজার, শ্রীলঙ্কা, ভারত, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া দখল করে নেবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যে শুল্ক হার ঘোষণা করেছেন তাতে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিশ্ব বাজার দখল নেওয়া কঠিন (Bangladesh managed to save their garments industry)। অন্যদিকে মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ টক্কর দেওয়ার জায়গায় রইল।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সরকারের বর্ষপূর্তির সময় নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগের মাঝে মার্কিন শুল্কের হার কমিয়ে মহম্মদ ইউনুস বড় জয় হাসিল করলেন।
বাংলাদেশের সরকারি মহল এই সাফল্যের জন্য বাড়তি কৃতিত্ব দিচ্ছে দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে। প্রধান উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় তাঁকে যুক্ত করেছিলেন। কারণ, বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে বেশ কিছু নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মনীতি সংযুক্ত আছে। এই বিষয়ে বাণিজ্য কর্তাদের সাহায্য করতে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিশেষ ভূমিকা নেন।
গত একমাস ধরে দর-কষাকষির পর বাংলাদেশ বাজিমাৎ করে। বাংলাদেশের পণ্যের উপর আগে থেকেই আমেরিকা ১৫ শতাংশ শুল্ক নিয়ে থাকে। আরও ২০ শতাংশ যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের পরিমাণ হলো ৩৫ শতাংশ। কিন্তু আগের হারে অতিরিক্ত শুল্ক গুণতে হলে দিতে হত ৫০ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত ১৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে বাজিমাত করেছে ইউনুস সরকার, মানছে সব মহল।
বস্তুত গতমাসের গোড়ায় মার্কিন প্রশাসন ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পর থেকেই বাংলাদেশে বণিক মহল দুশ্চিন্তায় ছিল। রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের উপর চাপ করেছিল শুল্ক নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দর-কষাকষিতে পেশাদার সংস্থাকে নিয়োগ করতে।