সাতদিনের মধ্যে কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন শুল্ক হার।

মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 1 August 2025 07:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালেন মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডার (Executive Order স্বাক্ষর করে ঘোষণা করেছেন, এবার থেকে আমদানিকৃত পণ্যে আমেরিকা ১০% থেকে ৪১% পর্যন্ত ‘reciprocal tariff’ বা পাল্টা শুল্ক চাপাবে।
এই সিদ্ধান্তে ভারতের রফতানিপণ্যের উপর সরাসরি ২৫% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তাইওয়ান থেকে আমদানি হলে ২০% এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০% শুল্ক বসবে।
সাতদিনের মধ্যে কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন শুল্ক হার। এর ফলে একদিকে যেমন ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নতুন করে আঘাত হানতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও শুরু হতে পারে নতুন চাপানউতোর।
হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ যে নির্বাহী নির্দেশিকা জারি করেছে, তাতে ৬৮টি দেশের জন্য নির্ধারিত শুল্ক হার উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের উপরও এই শুল্ক কাঠামো প্রযোজ্য।
যেসব দেশের নাম নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, তাদের জন্য ‘স্ট্যান্ডার্ড শুল্ক’ ১০% ধার্য করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে তাদের আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা বিচার করেই এই শুল্ক হার নির্ধারিত হয়েছে।
একই দিনে ট্রাম্প আরেকটি নির্বাহী নির্দেশে কানাডা থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৩৫% করেন। এই শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ১ অগস্ট থেকে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, "ফেন্টানিল এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদকের প্রবাহ থামাতে কানাডা সহযোগিতা করেনি। বরং আগের শুল্কের প্রতিশোধ হিসাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।"
তবে ইউএসএমসিএ-এর আওতায় ছাড় রয়েছে। এই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (USMCA)-এর আওতায় থাকা পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আমেরিকান গাড়ি শিল্প সহ একাধিক সংস্থা আগেই লবিং করে এই চুক্তির পণ্য আমদানিকে শুল্কমুক্ত রাখার দাবি জানায়। ফলে অধিকাংশ কানাডিয়ান পণ্য এখনও শুল্কছাড়াই আমদানির সুযোগ পাচ্ছে।
ব্যাঙ্ক অফ কানাডা-র ৩০ জুলাই প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এই ছাড়ের কারণে কানাডার গড় শুল্ক হার মাত্র ৫% ছিল। তবে নতুন নির্দেশের পরে এই হার কিছুটা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।