প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমও বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রফতানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত জরিমানাও বসিয়েছে। এর ফলে ভারতের আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বড় ধাক্কা খেল।”

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের অর্থনীতিকে ‘ডেড ইকনমি’ বলে বর্ণনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর এই মন্তব্যে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “হ্যাঁ, ট্রাম্প ঠিকই বলেছেন। এটা এমন একটা বাস্তব, যা গোটা দুনিয়া জানে—শুধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছাড়া। আমি খুশি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটা সত্যি কথা বলেছেন। বিজেপি সরকার আদানিকে সুবিধা দিতেই ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে।”
এরপর এক্স হ্যান্ডেলে (আগে টুইটার)–এ একটি পোস্টে মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে রাহুল লেখেন: "ভারতের অর্থনীতি মৃত। মোদী একে মেরে ফেলেছেন”। কীভাবে মেরে ফেলেছেন তা এক দুই করে বোঝাতে রাহুল লিখেছেন—
১. আদানি-মোদী পার্টনারশিপ
২. নোটবন্দি ও ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি
৩. ব্যর্থ ‘অ্যাসেম্বেল ইন ইন্ডিয়া’
৪. এমএসএমই ক্ষেত্রে ধ্বংস করা
ও ৫. কৃষকদের দমন”
রাহুল আরও যোগ করেন, “দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ শেষ করে দিয়েছেন মোদী। কারণ দেশে কোনও কাজ নেই।”
ট্রাম্প কী বলেছিলেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার Truth Social–এ লেখেন, “আমি তোয়াক্কা করি না ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করে। ওরা চাইলে একসঙ্গে নিজেদের ‘মরা অর্থনীতি’ নিয়ে ডুবে যেতে পারে। আমাদের ভারতের সঙ্গে ব্যবসা ন্যূনতম, কারণ ভারতের শুল্ক খুব বেশি—বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।”
ট্রাম্প একইসঙ্গে রাশিয়াকেও নিশানা করেন, বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকারও কোনও বড় বাণিজ্য নেই। এটাই ভাল। এবং সেই ব্যর্থ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভকে বলে দাও, তিনি যেন তাঁর কথা চিন্তা করে বলেন—কারণ তিনি বিপজ্জনক জায়গায় পা রাখছেন।”
এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তরজা। ট্রাম্পের বক্তব্যের পরেই কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও সরব হয়েছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের উপর ২৫% শুল্ক চাপানো ও অর্থনীতি নিয়ে কটাক্ষ—এই দু’টি বিষয় মিলে আগামী দিনে বিদেশনীতি ও অর্থনীতি ঘিরে সরকার আরও চাপে পড়তে পারে। তবে সরকারি তরফে এই নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
অন্যদিকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমও বলেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রফতানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত জরিমানাও বসিয়েছে। এর ফলে ভারতের আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বড় ধাক্কা খেল।”
চিদম্বরম আরও বলেন, “‘দোস্তি’ কখনও কূটনীতি বা কঠোর আলোচনা প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। আমেরিকার এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা তথা WTO-র নিয়মের লঙ্ঘন।” তারপরেই তাঁর কটাক্ষ করে চিদম্বরম বলেন, হোয়াট হ্যাপেন্ড টু মিগা প্লাস মাগা? (“What happened to MIGA + MAGA = MEGA?”)
কয়েক বছর আগে মোদি-ট্রাম্প যুগলবন্দীতে তৈরি হয়েছিল এই রাজনৈতিক সূত্র—MIGA (Make in India, Great Again) + MAGA (Make America Great Again) = MEGA। কিন্তু বাস্তবে সেই সম্পর্ক কতটা কার্যকর হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।