সব ইসলামিক ভোট এক বাক্সে আনার উদ্যোগে ধাক্কা খেলেও সমঝোতার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ নয়। দ্য ওয়ালকে জামাতের মহাসচিব গোলাম পরওয়ার জানালেন, এখনও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

জামাতের মহাসচিব গোলাম পরওয়ার
শেষ আপডেট: 16 January 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলির সব ভোট এক বক্সে ফেলার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল। জামাত ইসলামের নেতৃত্বাধীন এগারো দলের জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৮টিতে প্রার্থী দিল ইসলামিক আন্দোলন। বাংলাদেশে ইসলামিক দলগুলির মধ্যে ইসলামিক আন্দোলন দ্বিতীয় শক্তিশালী পার্টি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র পেশের কাজ আগেই শেষ হয়ে গেছে। ইসলামিক আন্দোলন ২৭০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। দুটি আসনে তাদের প্রার্থী পদ বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ আসনে দলটি লড়াই করবে বলে শুক্রবার ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করে তারা।
ইসলামিক আন্দোলনের এই সিদ্ধান্তে ইসলামপন্থী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের বাক্সে এর সুবিধা পেতে পারে বিএনপি।
যদিও জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, এতে বিএনপি সুবিধা পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তাঁর কথায়, বিএনপিকে মানুষ চিনে নিয়েছে। এই দলটিও আওয়ামী লিগের মতো কোন সন্ত্রাস দুর্নীতি করেছে।
দ্য ওয়াল-এর প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামের এই শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন ইসলামিক আন্দোলনের সঙ্গে বোঝাপড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, 'আমাদের সব ইসলামিক দলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ জানুয়ারি। তার আগে আলোচনার ভিত্তিতে করে আসন সমঝোতা হতে পারে। আমরা কিছু আসন ছাড়তে পারি। ইসলামিক আন্দোলনও কিছু আসন ছাড়তে পারে। আমাদের আলোচনা অব্যাহত।'
জামায়াতে ইসলামি সহ ইসলামিক দলগুলি প্রায় এক বছর আগে থেকে চেষ্টা চালাচ্ছিল ইসলামপন্থী পার্টির ভোট এক বাক্সে ফেলা। এর অর্থ ১১টি ইসলামপন্থী দলের একজন করে প্রার্থী থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে। কিন্তু জামায়াতের আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামিক আন্দোলনের বোঝা পড়া শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গিয়েছে। ইসলামিক আন্দোলন ১০০ টি আসন চেয়েছিল। কিন্তু জামাত-সহ জোটের বাকি দলগুলি ইসলামিক আন্দোলনকে ১০০ আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। তাদের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রেখে বৃহস্পতিবার রাতে জামাতসহ ১০টি দল তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ১১ জোটের মধ্যে দশটি দলকে নিয়ে জামাতের আমির শফিকুল রহমান ইসলামিক আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন রেখে বাকিগুলিতে প্রার্থী ঘোষণা করে দেন। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৭৯টিতে লড়াই করবে জামাত ইসলামি। সেখানে ইসলামিক আন্দোলন একাই লড়াই করবে ২৬৮ আসনে। অর্থাৎ জামাতের সঙ্গে সব আসনেই সরাসরি লড়াই হবে এই ইসলামপন্থী দলটির।
ইসলামিক আন্দোলন নামে দলটির মূল শক্তি বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। দলটির প্রধান বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তার সঙ্গে ইতিপূর্বে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল। কোন কোন মহল মনে পড়ছে বিএনপি'র সঙ্গে বোঝাপড়ার কারণেই চরমোনাইয়ের পীর জামাতের সঙ্গে বোঝাপড়া এড়িয়ে গেলেন।