বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটে ভাঙন। ইসলামী আন্দোলন বাদ, ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা দলের ভাগে মাত্র ৩০ আসন। রাজনৈতিক সমীকরণে লাভ কি বিএনপি’র?

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 16 January 2026 08:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। দফায় দফায় আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার বেশি রাতে দশটি দলের আসন সংখ্যা ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান।
এই তালিকায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শক্তিশালী ইসলামিক দল ইসলামী আন্দোলনের দাম নেই। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে এই দলটির জন্য ৪৭ টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩টির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জামাতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের প্রধান বিরোধ আসন সংখ্যা নিয়েই। চরমোনাই পীর মুক্তি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের দল ইসলামী আন্দোলন ১০০ টি আসন দাবি করেছিল। কিন্তু জামাত নেতারা কিছুতেই তাদের ৫০টি'র বেশি আসন দিতে রাজি হননি। এ নিয়ে বুধবার থেকেই জোটে ফাটল দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত ওই দলটিকে মাত্র ৪৭টি আসন ছেড়েছে জামাতের জোট।
৩০০ আসনের মধ্যে জামাতি ইসলামি একাই লড়াই করবে ১৭৯ আসনে। তাৎপর্যপূর্ণ হলো এই জোটেই নাম লিখিয়েছে নবীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। যারা ২০২৪ এ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে। এত বড় কৃতিত্বের পরেও তাদের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৩০ টি আসুন। এছাড়া জামাতের জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিভারের ডেমোক্রেটিক পার্টির সাতটি, আমার বাংলাদেশ পার্টির তিনটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও নিজামে ইসলাম পার্টি দুটি করে আসনে প্রার্থী দেবে।
চরমোনাই পীরের দল এখনো পর্যন্ত আসন নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত না দেওয়ায় জামাতের জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলিতে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের যোগদান নিয়ে সংশয় আসন্ন নির্বাচনকে নয়া মাত্রা দিয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। কোন কোন মহলের মতে এর ফলে বিএনপির সুবিধা হতে পারে। তবে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির আনুষ্ঠানিক কোন বোঝাপড়া হওয়ার সুযোগ এখন আর নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় যে বৈঠকে জোটের আসুন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয় সেখানে ইসলামী আন্দোলনের নেতা চরমোনাই পীরের জন্য একটি চেয়ার রাখা ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি বারবার তার দলের কেউ না আসায় ফাঁকাই থেকে যায় চেয়ারটি।
চরমোনাই পীরের অনুপস্থিতি যেমন আলোচনায় এসেছে তেমনি এনসিপি অর্থাৎ অভ্যুত্থানকারী দলের ভাগ্যে মাত্র ৩০ টি আসন মেলা নিয়েও রাজনৈতিক মহল বিস্মিত। আসলে জামাতে ইসলামীর হাত ধরায় জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক নেতা দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। আজ শুক্রবার সেই নেতারা মিলে একটি নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির কথা ঘোষণা করতে পারেন। তারা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে প্রচার শুরু করবেন বলে ঠিক আছে। একাধিক মহলের খবর তাদের প্রধান নিশানা হবে জাতীয় নাগরিক পার্টি। জামাত ইসলামের মত উগ্র ধর্মীয় নিয়ম মতাদর্শে বিশ্বাসী দলের সঙ্গে হাত মেলানোয় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অনেকটাই কোণঠাসা। যদিও বৃহস্পতিবারের জোট বোঝাপড়াকে তিনি ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেছেন।