রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এন এন মহম্মদ নজরুল ইসলাম (Hadi Death)।

ওসমান হাদি
শেষ আপডেট: 28 December 2025 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি (Osman Hadi) খুনের তদন্তে বড় অগ্রগতির দাবি করল ঢাকা মহানগর পুলিশ। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগীকে ভারতের মেঘালয় থেকে গ্রেফতার করেছে সে রাজ্যের পুলিশ (Bangladesh)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এন এন মহম্মদ নজরুল ইসলাম (Hadi Death)।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাঁর দাবি, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এখনও অধরা থাকায় খুনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এর আগে, তিন দিন আগেই ঢাকা পুলিশ জানিয়েছিল যে, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য ছিল, ওই দু’জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকা ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, তিনি যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধরীর ভগ্নিপতি।
এ বার সেই সূত্র ধরেই সামনে এল নতুন তথ্য। নজরুল ইসলাম জানান, খুনের পর ফয়সাল করিম ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে পালান। ডেইলি স্টারকে দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সীমান্ত পার হওয়ার পর প্রথমে তাঁরা ‘পূর্ণি’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ‘সামি’ নামে এক ট্যাক্সিচালকের সাহায্যে তাঁরা মেঘালয়ের তুরা শহরে পৌঁছন। তদন্তের সূত্র ধরেই পূর্তি ও সামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে তাঁকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু ছ’দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর পর গোটা বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র অস্থিরতা ছড়ায়। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সমর্থকেরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেই বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক সরকারি দফতর, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমের অফিস।
হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই বহু জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এবং তাঁর প্রধান সহযোগী আলমগীর শেখ ধরা পড়েননি। পুলিশের দাবি, দু’জনেই ভারতে পালিয়ে এসেছেন— এবং সেই সূত্রেই মেঘালয় পুলিশের সহায়তায় তদন্ত আরও এগোচ্ছে।