সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এই টেলিফোনিক আলাপে (Yunus phone call with America) মোঃ ইউনুস তাঁকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেষ আপডেট: 23 December 2025 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনূসের (Md Yunus) সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (America) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সারজিও গোর। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এই টেলিফোনিক আলাপে (Yunus phone call with America) মোঃ ইউনুস তাঁকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে মোহাম্মদ ইউনুস এই মার্কিন কর্তার সঙ্গে আলোচনায় শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর শেষ যাত্রায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
এই টেলিফোনিক বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হয় যখন বাংলাদেশে ময়মনসিংহে হিন্দু তরুণ দীপু চন্দ্র দাস (Dipu Chandra Das)-কে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা দেশে সংখ্যালঘু সমাজ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) দূত গোর এই বিষয়ে কোন আলোচনা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে অন্তত প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বয়ানে তেমন কিছুর উল্লেখ নেই। আলোচনায় সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়টি না আসায় অনেকেই বিস্মিত। তারা মনে করছেন এটা সংখ্যালঘুদের বিপন্নতাকে মার্কিন প্রশাসন কোন দৃষ্টিতে দেখছে তার একটি প্রতিফলন এবং মার্কিন ঘোষিত নীতির পরিপন্থী। মাস কয়েক আগে আমেরিকার আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু বিষয়ক সংস্থা বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতনের প্রসঙ্গটি নিয়ে সরব হয়েছে। সেই সরকারি সংস্থার রিপোর্ট তো আছেই, সম্প্রতি পোপ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই দেশগুলি তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। তারপরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সারজিও গোর কেন মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের বিষয়টি এবং দীপু দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেননি তা নিয়ে নানা মহলে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার রাতেই ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অফিসে সেদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকদের থ্যাংকস গিভিং অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রিতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মার্কিন কর্তারা আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামি ও উগ্র ইসলামিক দলগুলির কার্যকলাপের কোন সম্পর্ক নেই। তারা এই দলগুলির উগ্র রাজনীতিকে সমর্থন করে না। মনে করা হচ্ছে শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে হাতিয়ার করে জামায়াতে ইসলাম এবং উগ্র ইসলামিক দলগুলি ও তৌহিদী জনতা যেভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করছে তার সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেছে। কারণ জনমনে ধারণা আছে, জামাতের বারবার অন্তের পিছনে মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ মদত রয়েছে। এবং সেই কারণেই জামাতকে তার সরকারের অন্তরাত্মা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন মহম্মদ ইউনুস।
প্রসঙ্গত সার্জারিও গোর বর্তমানে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে একইসঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেছেন। এই অঞ্চলের মধ্যেই পরে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান। ফলে গোরের পক্ষে দিল্লিতে বসে ভারতের প্রতিবেশী এই দুটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া তাঁর সরকারি দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।
তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তাদের টেলিফোনিক আলাপে গোর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ গুলি তোলেননি। প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে তিনি মার্কিন দূতকে বলেছেন, নির্বাচনের আর প্রায় ৫০ দিন বাকি, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে চাই এটি যেন স্মরণীয় হয় সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
ইউনুস বলেছেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যা স্বৈরাচারী শাসনামলে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন রাষ্ট্র দূতের কাছে প্রধান উপদেষ্টা অভিযোগ করেন ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন এবং তাদের পলাতক নেতা সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন তবে তিনি জানান অন্তর্বর্তী সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।