ওসমান হাদির খুনের দায় সরাসরি মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপালেন তাঁর দাদা।
.jpeg.webp)
ওসমান হাদি
শেষ আপডেট: 24 December 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকার রাজনীতিতে ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। বিজয়নগরে (Bijoynagar) প্রচারে নামার সময় গুলিতে নিহত ছাত্রনেতা ও যুব আন্দোলনের মুখ শরিফ ওসমান হাদির (Sharif Osman bin Hadi) মৃত্যুর দায় সরাসরি মহম্মদ ইউনুস (Mohammad Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপাল তাঁর পরিবার। নিহত নেতার দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি (Sharif Omar bin Hadi) সাফ জানিয়ে দিলেন, এই খুনের দায় এড়াতে পারে না বর্তমান প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওমর বলেন, “যে সময়ে আমার ভাইকে খুন করা হল, তখন ক্ষমতায় অন্তর্বর্তী সরকার। তাই নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় তাদেরই নিতে হবে। বিচার একদিন হবেই।” তাঁর অভিযোগ, শুধু খুন নয়, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে (general election) অস্থির করার চেষ্টা চলছে।
ওমরের আরও দাবি, হাদির মৃত্যু ছিল পরিকল্পিত। নির্বাচন বানচাল করতেই তাঁকে টার্গেট করা হয়। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমার ভাই নির্বাচন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল। ওকে খুন করে এখন সেই ঘটনাকেই ইস্যু বানিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা চলছে। এটা সরাসরি গণতন্ত্রকে (democracy) ধ্বংস করার চেষ্টা।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় প্রচার চালানোর সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা মাথায় গুলি করে ৩২ বছরের এই যুবনেতাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরের (Singapore) একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়াতেই বাংলাদেশের (Bangladesh) একাধিক এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অশান্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন। শনিবার ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের (Dhaka University Mosque) পাশে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam)-এর কবরের কাছেই হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন লক্ষাধিক মানুষ।
হাদির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক (state mourning) ঘোষণা করেছে ইউনুস সরকার। তবে শোকের আবহেই প্রশ্ন উঠছে-এই খুন কি শুধুই রাজনৈতিক সহিংসতা, নাকি আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনও চক্রান্ত? বাংলাদেশের রাজনীতি আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে।