যুব নেতা ওসমান হাদি খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশজুড়ে লুক আউট নোটিশ জারি হয়েছে, বিদেশযাত্রাতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

হাদিকে গুলি মেরেছিল এই যুূূবকই
শেষ আপডেট: 22 December 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাদিকে একদম কানের পাশ থেকে গুলি করেছিল দুষ্কৃতীরা। মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিক করল পুলিশ। তাকে খুঁজে পেতে দেশজুড়ে লুকআউট নোটিস (Lookout Notice) জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও চাপানো হয়েছে এদিন। হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, তার মধ্যেই তদন্তে গতি আনতে এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
ঢাকার (Dhaka) একটি আদালত রবিবার ফয়সাল করিম মাসুদকে (Faisal Karim Masud) দেশ ছাড়তে নিষেধ করে। তদন্তকারীরা তাকেই শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে মূল শুটার বলে চিহ্নিত করেছে। আদালতের নির্দেশের পরই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মাসুদ-সহ হামলায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেশের যে কোনও প্রান্তে তাঁদের খোঁজ মিললেই গ্রেফতার করা হবে।
নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, ফয়সাল করিম মাসুদ এখনও বাংলাদেশেই (Bangladesh) লুকিয়ে রয়েছে। তবে গ্রেফতার এড়াতে ঘন ঘন অবস্থান বদলাচ্ছে সে। ধরতে একাধিক তদন্তকারী দল নামানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি (Surveillance)। মোবাইল ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
৩২ বছরের যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে ঢাকায় গুলি চালায় কয়েকজন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে (Singapore) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ইনকিলাব মঞ্চ (Inqilab Mancha) এবং সিঙ্গাপুর প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবার হাদির মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের (Student-led Uprising) অন্যতম মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনে (General Election) ঢাকা-৮ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলে হাদি পরিচিত ছিলেন তাঁর তীব্র ভারত-বিরোধী (Anti-India) অবস্থানের জন্য। বিশেষ করে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভারতে চলে যাওয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি।
হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থক ও ছাত্র সংগঠনগুলি দ্রুত গ্রেফতার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পথে নামে। প্রশাসনের তরফে একদিকে হিংসা এড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।