শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে ফের সিলমোহর দিল বিদেশ মন্ত্রকের সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি। কেন এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 19 December 2025 09:50
শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথমে সংসদ, তারপর বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটি আগেই সায় দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটি ফের ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। তারা বলেছে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভারতের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকেই ধারণ করছে। অতীতেও ভারত সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে কোন ব্যক্তি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভারত তাঁর পাশে আতিথেয়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংসদীয় কমিটির এই অভিমত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লিগের জন্য বাড়তি স্বস্তির কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গত মাসে হাসিনাকে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর সে দেশের সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণের জন্য বারে বারে তাগাদা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করলেও ভারত এখনও পর্যন্ত জবাব দেয়নি। এরই মধ্যে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে হাসিনাকে ফেরানোর প্রসঙ্গে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন 'বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কবে দেশে ফিরবেন সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। ভারত সরকার এই ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেবে না।'
বিদেশ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কোনভাবেই রাজি নয় ভারত সরকার। বিশেষ করে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবনের মতো কঠোর সাজা দেওয়ার পর হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
তবে বিদেশ মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। কমিটির অভিমতের ফলে হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন শুধু আর ভারত সরকারের বিষয় রইল না। প্রথমসারির সব দল কার্যত আওয়ামী লিগ নেত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে ফের সিলমোহর দিল। গত বছর পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লিগ নেত্রী ভারতে আসার পর দিন সর্বদলীয় বৈঠকে ভারত সরকারের তরফে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং হাসিনার দেশ ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। সেই বৈঠকেই সব দল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়।
সংসদীয় কমিটি তাদের বৃহস্পতিবারের রিপোর্টে বলেছে, 'বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে অবস্থান এবং এই বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তার সভ্যতার নীতি এবং মানবিক ঐতিহ্য দ্বারা পরিচালিত। ভারত গুরুতর দুর্দশা বা অস্তিত্বের হুমকির সম্মুখীন ব্যক্তিদের আশ্রয় দিয়ে থাকে।'
সংসদীয় কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান শশী তারুর তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ। ইউপিএ জমানায় তিনি বিদেশ মন্তকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া তারুর বাংলাদেশের রাজনীতি বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন সাংসদ। তিনি নিয়মিত বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিকে কলাম লেখেন।
আবার মোদী সরকারের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ভাল। তারুরের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি তাদের বৃহস্পতিবারের রিপোর্টে আরও বলেছে, সরকারের উচিত ভারতের মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে এই ধরনের পরিস্থিতি পরিচালনা করার সময় তার নীতিগত এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা।'