ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবকের ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 December 2025 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখনও কারও বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি। পুলিশের বক্তব্য, তারা নিহতের নিকটজনের সন্ধান করছেন। তারা অভিযোগ দায়ের করলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যে অনেকেই বিস্মিত। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকশো মানুষের সামনে একদল উগ্রবাদী ওই যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সমাজমাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই আঁতকে ওঠেন। একজন লেখেন, পাঁচ সেকেন্ডের বেশি দেখতে পারলাম না। এতই ভয়াবহ দৃশ্য। এমন ঘটনা নিয়ে পুলিশ স্বয়ং:প্রণোদিত হয়ে কেন মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করছে না সেই প্রশ্নে উত্তাল সমাজমাধ্যম। ঘটনার সময় পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। নিহতের নাম দীপুচন্দ্র দাস। তিনি ওই উপজেলার ডুবালিয়া পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি ছোট গার্মেন্টস কোম্পানিতে তিনি কাজ করতেন।
অভিযোগ ইসলামের নবী মহম্মদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন দীপু চন্দ্র দাস। তবে কোথায় কখন কীভাবে কার সামনে তিনি নবীকে অবমাননা করেছেন সে ব্যাপারে কেউই স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে প্রথমে কারখানা থেকে বের করে মারধর করা হয়। তারপর অর্ধমৃত অবস্থায় একটি গাছে ঝুলিয়ে আরেক দফা লাঠিপেটা করার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় দেহে। এই ঘটনা ঘটে স্থানীয় এক মহাসড়কের পাশে। ফলে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
ভালুকা থানার ডিউটি অফিসার রিপন মিয়া রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, নবী সম্পর্কে কটুক্তি করার অভিযোগ ছিল ওই যুবকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা গণহত্যা করেছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অতীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একাধিক সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের কোন সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশের একাংশের বক্তব্য এই ধরনের হত্যাকান্ড এক জাতীয় মব-সন্ত্রাস। কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযোগ রটিয়ে দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা হচ্ছে।