আইনের বিধান মেনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার হয়ে মামলা লড়তে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করেছে। সেই আইনজীবীর নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

শেষ আপডেট: 23 June 2025 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (International Crimes Teibunal) শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের (Asaduzzaman Khan Kamal, ex home minister of West Bengal) হাজির হওয়ার নির্দেশ রয়েছে। যদিও তাঁদের হাজির থাকার কোনওই সম্ভাবনা নেই। দু'জনেই প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিচার প্রক্রিয়া তাঁরা বয়কট করছেন। আওয়ামী লিগ এই বিচারকে প্রহসন বলেছে।
এদিকে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কীভাবে তাঁর বিচার চলবে সে ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালকে পরামর্শ দিতে একজন অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত বান্ধব নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউর রহমান এই দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, আইনের বিধান মেনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার হয়ে মামলা লড়তে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করেছে। সেই আইনজীবী আমিনুল গণি টিটুর নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ট্রাইব্যুনালে যিনি হাসিনাকে নির্দোষ প্রমাণে লড়াই করবেন দেখা যাচ্ছে সেই আইনজীবী এর আগে শেখ হাসিনার ফাঁসি দাবি করেছেন।
গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই আইনজীবী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী, খুনি, মিথ্যাবাদী শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই।'

এমন একজন আইনজীবীকে কীভাবে হাসিনার আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হল তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাুইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আইনজীবী হিসাবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা সম্পূর্ণভাবে ট্রাইব্যুনালের বিষয়। সরকারের কিছু করণীয় নেই।
এদিকে, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা একটা প্রহসন। আমার মায়ের মামলায় সরকার যাঁকে নিয়োগ করেছে তিনিই মায়ের ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে বিচার কীভাবে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাইব্যুনালের চিফ।প্রসিকিউটর তাজুল ইসলানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী আসামিদের হয়ে মামলা লড়ছেন। তাঁর নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক আছে।