বার্তায় আওয়ামী লিগ নেত্রী দলের প্রতিষ্ঠা এবং সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। বলেছেন, বাঙালির মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নই আওয়ামী লিগের আদর্শ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 23 June 2025 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আওয়ামী লিগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এক বার্তায় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা এখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু হতাশ হবেন না। সাহস হারাবেন না। অতীতের মতো এবারও আমরা দেশকে রাহুমুক্ত করব।
হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লিগের উপর হামলা আসলে বাংলাদেশের উপর আঘাত। আওয়ামী লিগ ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য।
বার্তায় আওয়ামী লিগ নেত্রী দলের প্রতিষ্ঠা এবং সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। বলেছেন, বাঙালির মিলিত আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নই আওয়ামী লিগের আদর্শ।
আওয়ামী লিগ সভাপতি বলেছেন, ১৯৪৭ সালে পূর্ব বঙ্গের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পাকিস্তানের জন্মের পরপরই হোঁচট খায়। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কিছু জাতীয়তাবাদী তরুণ রাজনীতিক ওই সময় উপলব্ধি করেন- বাংলার গণমানুষের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন মুসলিম লিগ আগ্রহী নয়। পূর্ববঙ্গীয় মুসলিম লিগের প্রগতিশীল ধারার এই তরুণরা ছিলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী। অসম প্রাদেশিক মুসলিম লিগের সভাপতি বর্ষীয়ান নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি ও আরেক তরুণ নেতা শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লিগের প্রথম কমিটি গঠিত হয়। যেখানে কারাবন্দি অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদকের পদ লাভ করেন।
হাসিনা বলেছেন, এই দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই আওয়ামী লিগের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রবাদপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, কৃষক-জনতার নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহিদ সোহরোওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে। অবিভক্ত বাংলার নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজী সুভাষ বোসসহ এই মূলধারার নেতাদের উত্তরাধিকার বহনকারী বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ছিল জন আকাঙক্ষারই ভাষা।
আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেছেন, ১৯৫৩ সালে বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবার পর অসাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লিগ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিস্তৃত হয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের বিভেদ পেরিয়ে আওয়ামী লিগের হাতেই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিকাশ ঘটে।
তাঁর কথায় কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কিংস পার্টি (সরকার, সেনাবাহিনী সহ ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধনে তৈরি দল) হিসেবে আওয়ামী লিগের জন্ম হয়নি। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া এই দল তাই কখনও ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে মানুষের অধিকার আদায়ে যেমন সোচ্চার, তেমনি জনকল্যাণেও সর্বাগ্রে। ৭৬ বছরের প্রাজ্ঞ এই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আর আওয়ামী লিগ সমার্থক। বাংলাদেশের মাটি থেকে কেউ আওয়ামী লিগকে মুছে ফেলতে পারবে না।
হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার কন্যা হিসেবে, তাঁর আদর্শ ধারণ করে এই মহান সংগঠনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনর্গঠন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, দারিদ্র্য হ্রাস, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে উন্নয়নের পথ রচনা করেছি।
কিন্তু বেদনার সঙ্গে বলতে হয়, আজ আমরা গভীর সংকট পার করছি। একটি অসাংবিধানিক সরকার অন্যায়ভাবে আমাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, যেমনটি ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খানও করেছিল। আমাদের লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে, লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে। এই দমন-পীড়ন আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে নয়, এটি জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র।
এই দুঃসময়ে আমি দলের নেতাকর্মী এবং শান্তিপ্রিয় জনগণকে বলবো- সাহস হারাবেন না। অতীতের মতো এবারও বাংলাদেশকে রাহুমুক্ত করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর সাহস, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার শিক্ষাই আমাদের যুদ্ধ জয়ের অস্ত্র।