রাজনীতিতে বিপর্যয়ের (political disaster) আভাস অনুমান করতে না পারা কিংবা পারলে তা আটকাতে না পারার ব্যর্থতাক দায় দল তথা নেতৃত্বকে নিতে হয়।

শেখ হাসিনা।
শেষ আপডেট: 22 June 2025 18:39
আগামীকাল ২৩ জুন, সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের (Bangladesh Awami League) ৭৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (76th Foundation day) । ভারতে কংগ্রেস (Congress), কমিউনিস্ট পার্টি (Communist party), অকালি দল (Akali Dal), পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (Pakistan People Party) বাদে উপমহাদেশের প্রথমসারির দলগুলির মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি পার্টি ৭৫ পেরিয়েছে। তবে, বাংলাদেশের এই পুরনো দলটির পরিচিতির বিশেষ দিকটি ভিন্ন, অনন্য। একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বে বাঙালির প্রথম স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ (a nation for Bengalis) অর্জনের কৃতিত্ব তাদের ঝুলিতে আছে। রক্তের অর্থ মূল্যে মাপা হলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অমূল্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সহায়তা, ভারতীয় সেনার অংশগ্রহণকে বিবেচনায় রেখেও বলতে হয়, পূর্ব পাকিস্তানের (east Pakistan) মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের (rular of West Pakistan) নিপীড়ন, নির্যাতন, শোষণ, বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে শেখ মুজিব ও তাঁর দলের উপরই আস্থা রেখেছিলেন।
৭৬ বছর ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দলের জন্য কোনও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে না। তবে আওয়ামী লিগের জন্য ৭৬তম জন্মদিনটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী। ২০২৪-এর সঙ্গে ২০২৫-এর ২৩ জুনের আসমান-জমিন ফারাক। গত বছর এই দিনে বাংলাদেশ ছিল আর পাঁচটা দিনের মতো। পরের মাস থেকে শুরু হওয়া কোটা বিরোধী আন্দোলন, সেই আন্দোলনের জেরে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে শত শত মৃত্যু, তার জেরে ৫ অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার সরকারের পতন, তাঁর এবং প্রথমসারির বহু নেতার দেশত্যাগের পর পদ্মা (Padma)-মেঘনা (Meghna) -যমুনা (Yamuna) দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। তথাকথিত জুলাই-অগাস্ট বিপ্লবকে ভূমিকম্প এবং টর্নেডোর সঙ্গেই একমাত্র তুলনা চলে যেখানে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন। কিন্তু অসম্ভবও নয়।
রাজনীতিতে বিপর্যয়ের (political disaster) আভাস অনুমান করতে না পারা কিংবা পারলে তা আটকাতে না পারার ব্যর্থতাক দায় দল তথা নেতৃত্বকে নিতে হয়। ৭৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মুখে দলটি জানিয়েছে, গত দশ মাসে শুধু কারাগারেই তাদের ২৫ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। তবে সব মিলিয়ে নিহত দলীয় কর্মী কয়েক হাজার বলা হলেও কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা দলটি এখনও দিতে পারেনি। স্বয়ং দলনেত্রী এবং নেতারা এই ব্যাপারে এক এক সময় এক এক রকম সংখ্যা বলে অভিযোগটিকে কিঞ্চিৎ লঘু করে ফেলেছেন কিনা ভেবে দেখা দরকার। দশ মাসেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ না করা দলের শহিদদের প্রতি একপ্রকার অবমাননা। অথচ, প্রতিপক্ষ শিবিরও একবাক্যে স্বীকার করে বাংলাদেশে পাড়া, এমনকী গলি পর্যায়ে সংগঠন একমাত্র আওয়ামী লিগেরই আছে। নিহতের সংখ্যা নির্ধারণ দলটির জন্য কঠিন কিছু নয়।
গণঅভ্যুত্থান (people uprising) মোকাবিলায় সেনা-পুলিশ দিয়ে দমনপীড়ন এবং আওয়ামী লিগের পনেরো বছরের শাসনামলে মানবাধিকার (human rights), গণতন্ত্র (democracy), ভোটাধিকার (right to voting) হরণের গুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বা আইসিটি (International Crime Tribunal, Dhaka) শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে গত ১ জুন। একুশ দিনের মাথায়, শনিবার বিকালে আওয়ামী লিগ (Awami League) সরকারিভাবে নেত্রীর বিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। এই বিলম্বে বোধদয় নিয়ে দলের নেতারা কেউ মুখ খুলতে চাননি। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। দলের ঘরোয়া বৈঠকগুলিতে এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। আওয়ামী লিগ কীভাবে চলছে, এই বিবৃতি বিবাদ থেকে বোঝা যায়।
আশ্চর্যের হল দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি আগের তুলনায় সুস্থ বলেও 'দ্য ওয়াল'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন। সক্রিয় দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এবং বাহাউদ্দীন নাছিম। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতিটি সিনিয়র নেতাদের কারও নামে প্রচার করা হয়নি।
প্রসঙ্গটি উল্লেখ করলাম এই কারণে যে ক্ষমতা হারানোর দশ-সাড়ে দশ মাস পরেও আওয়ামী লিগ কেমন গতানুগতিকার শিকার তাদের সর্বোচ্চ নেত্রীর বিচার নিয়ে তিন সপ্তাহের মাথায় নেতাদের টনক নড়ল কিছু একটা বলা দরকার। ধরে নেওয়া যায়, দায়সারা বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে তা খাতায়কলমে দলীয় দস্তাবেজে জমা রাখতে।
বিবৃতিতে দল আইসিটি-র বিচারকে অবৈধ, অনৈতিক বলেছে। তারা যে বিচার প্রক্রিয়া অংশ নেবে না, হাসিনার একাধিক ভাষণেও তা বোঝা গিয়েছিল। কোনও সন্দেহ নেই, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে তাতে আইসিটি-কে ক্যাঙারু কোর্ট বলার অবকাশ আছে। হাসিনার দলের মূল অভিযোগ, তাদের নেত্রীকে দোষী ধরে নিয়ে বিচার করা হচ্ছে।
ঢাকার এই ট্রাইব্যুনালেই ২৪-এর জুলাই-অগাস্টের অস্থিরতা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই-কমিশনারের তদন্ত রিপোর্টটি পেশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যে রিপোর্টের বৈধতা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন, সংশয় আছে যা এই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাম্য ছিল না। রাষ্ট্রসংঘের ওই সংস্থারই উচিত ছিল, নিজেদের মর্যাদা, গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় রিপোর্টটি প্রত্যাহার বা প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন করা।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসিনার বিচার নিয়ে মৌলিক প্রশ্নটি হল, সংগঠনটি ১৪০০ মানুষকে হত্যার কথা জানিয়ে বলেছে, ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডগুলি এর অন্তর্ভুক্ত। অথচ, হাসিনার বিচার শুরু হলেও ৫ অগাস্ট পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের খুনিদের বিরুদ্ধে ইউনুস সরকার এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করেনি। রাষ্ট্রসংঘও নীরব।
হাসিনা-সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের বিচার তাই মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৭৭-এ জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বিক্ষুব্ধ সেনা অফিসারদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার, বিচার এবং ফাঁসি দেওয়ার ঘটনা। জুলাই-অগাস্টে হত্যার দায় অস্বীকার করে হাসিনার দল বলেছে, অগাস্টের শুরুতেই আওয়ামী লিগ এসব বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং রাষ্ট্রসংঘকে ঘটনাস্থলে পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটের বিপরীতে সরকার এবং ট্রাইব্যুনাল দ্রত দৌড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত সহায়ক নিয়োগ করেছেন, যিনি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে ট্রাইব্যুনালকে পরামর্শ দেবেন। হাসিনা-সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের হাজির হতে খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে, হাসিনা ও তাঁর দল এই বিচার প্রত্যাখ্যান করছে।
হাসিনার বিচার শুরুর ঠিক একমাস আগে মহম্মদ ইউনুসের সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারি নির্দেশিকা হাতিয়ার করে দেশটির নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লিগের নিবন্ধন বাতিল করেছে। ফলে আপাতত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দলটির নেই। তার আগে পর্যন্ত এই দল বলেছে, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের (যা ধ্বসং করার অভিযোগ এই দলটির বিরুদ্ধেই আপাতত বেশি) ব্যবস্থা হলে তারা অবশ্যই অংশ নেবে।
আওয়ামী লিগের এই সিদ্ধান্ত যেমন সঠিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল তেমনই বিচার বয়কটের সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক ভুলের খেসারত দিতে হতে পারে। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল ন্যায় বিচারের দাবি তুললে ইউনুস সরকার ও ট্রাইব্যুনাল এত জেট গতিতে বিচার সম্পন্ন করার সাহস পেত কিনা সন্দেহ। বিচার বয়কট করে সমব্যাথী পাশে পাওয়া কঠিন। বিচারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন না তুলে তা বয়কট আসলে দেশেকেই অস্বীকারের শামিল।
আমার মনে হয়, শেখ হাসিনার মুখে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলির গ্রহণযোগতা, বিশ্বাসযোগ্যতাতেই পাল্টা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিত, তাই শুধু নয়, দলের কর্মী-সমর্থদের মনোবল চাঙা হত। বিশেষ করে দলের সেই মানুষগুলি যাঁরা ৫ অগাস্টের পর শুধু আওয়ামী লিগ করার অপরাধে ঘর-বাড়ি, চাকরি-ব্যবসা হারিয়ে বিনা দোষে, বিনা বিচারে কারাগারের যন্ত্রণা ভোগ করছেন, তাঁরা ও তাঁদের পরিজন অন্তত মানসিক স্বস্তি পেত। জেলের বাইরে থাকা দলের যে হাজার হাজার পার্টি অন্তপ্রাণ নেতা-কর্মী গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ‘শেখ হাসিনা ফিরবে, বাংলাদেশ হাসবে’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁদের দেখে আরও মানুষ উদ্দীপিত হতেন।
জুলাই-অগাস্টের অশান্তি, এত মৃত্যু, রক্তপাতের দায় অস্বীকার করে আওয়ামী লিগ ও শেখ হাসিনা (দলের চোখে যিনি এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমা চাওয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তারা গণঅভ্যুত্থানকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বলেই দায় সেরেছে। যদিও সেই ষড়যন্ত্রের কারিগরদের সম্পর্কে শেখ হাসিনার দল নীরব। অথচ, দুধের শিশুটির বুঝতে বাকি নেই, কীভাবে আমেরিকা ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল। আওয়ামী লিগ সরকারিভাবে এই ষড়যন্ত্রকারীর নাম মুখে না আনায় তাদের রাজনৈতিক ক্ষতি বই লাভ হচ্ছে না। গোটা বিশ্ব দেখছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কীভাবে আর একজন জুনিয়র বুশ হয়ে উঠেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা মার্কিন শাসকদের ইসলামকে নিকেশ করার ধারাবাহিক লড়াইয়েরই অঙ্গ।
আসি ষড়যন্ত্রের কথায়। যে দেশে দু-দু’জন রাষ্ট্রপতি ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে খুন হয়েছেন, যাঁদের একজন দেশটির জন্মদাতা এবং আওয়ামী লিগেরই প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজনৈতিক হিংসা যে ভূমিকে সময় সময় যুদ্ধক্ষেত্র করে তুলেছে সেখানে ষড়যন্ত্র থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ষড়যন্ত্র রাজনীতি, ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে নয়, বরং অংশ বিশেষ। তার উপর পনেরো বছর ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার হত্যার, সত্য-মিথ্যা-অতিরঞ্জিত অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। নির্বাচন বয়কটকারীরা অন্যভাবে সরকারের পতন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাবে, এ তো অনিবার্য ছিল। আমেরিকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, একথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন ঢাকার রুশ রাষ্ট্রদূত। হাসিনার প্রশাসন, আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব তা কানে তোলেননি।
আশ্চর্যের হল, ক্ষমতা হারানোর দশ-সাড়ে দশ মাস পরেও আওয়ামী লিগ কিন্তু জানায়নি, কেন হাসিনার সরকার এবং দল ষড়যন্ত্র আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে। তার দায় কাদের? জানায়নি, কারণ এই বিষয়ে দলে আজ পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কারণ, এই দলের নেতারা জ্যোতিষীর স্তোক বাক্যের মতো বিশ্বাস করেন, ভারতের বায়ুসেনার বিমান তাঁদের নেত্রীকে ঢাকায় পৌঁছে দিয়ে আসবে। তারপর তাঁরাও হুড়মুড় করে দেশে ঢুকে পড়বেন।
অথচ, যে ৪০-৪২ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লিগকে ভোট দেন, যে নেতা-কর্মী সমর্থকেরা সীমাহীন নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার, যারা জেলে পচে মরছে দলের তরফে তাদের কাছে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া কিন্তু সময়ের দাবি। দুর্ভাগ্যের হল, আওয়ামী লিগের কোনও নেতাই এমন ভাবনার ত্রিসীমানা মারাতে নারাজ। সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায় নিতে অস্বীকার করে ওয়াবদুল কাদের বলেছেন, যা করেছি, নেত্রীর কথা মতো করেছি।
অপরাধী যেই হোক না কেন, আওয়ামী লিগের শাসনামলে এত মৃত্যুর প্রশাসনিক দায় আইনের কাঠগড়ায় এড়ানো হয়তো সহজ, কিন্তু জনতার আদালতে নৈতিক দায় উপেক্ষা করা কঠিন তাই-ই শুধু নয়, তা দাম্ভিক, অবিবেচকদের অমানবিক ভাবনা।