নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের গ্রেফতার ঘিরে তপ্ত রাজনীতি। হাসিনার মামলার সঙ্গে তুলনা, নেপালের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।
.jpeg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 March 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (KP Sharma Oli) এবং তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে (Ramesh Lekhak) একটু পরেই কাঠমাণ্ডুর আদালতে পেশ করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁদের আইনজীবীরা এই গ্রেফতারকে প্রতিহিংসামূলক দাবি করে আদালতের দারস্ত হয়েছেন। আদালত প্রাঙ্গণে মোতায়েন হয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। ওলির পার্টিও এই গ্রেফতারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেছে।
নেপাল সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে তারা চান না সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আদালতে পেশ করার সময় কোনও ধরনের অশান্তি হোক। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির সমর্থকেরা আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করেছে বলে খবর। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘন্টা ফেরানোর আগেই গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে নেপালের রাজনীতি যথেষ্ট তপ্ত হয়ে উঠেছে। যদিও বলেন্দ্র নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জেন-জি আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার গড়ার পর মুহুর্ত থেকেই তিনি ব্যবস্থা নিতে শুরু করবেন।
তবে সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে এই গ্রেফতারির আসল কারিগর সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। তিনি আন্দোলন দমনকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপ না করে বিচার বিভাগকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন। নেপাল সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিশন নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই জেনে জি আন্দোলন দমনে কেপি শর্মা অলি সরকারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'গুলি চালানোর নির্দেশ ওলি কিংবা তাঁর মন্ত্রীরা দিয়েছিলেন— এমন কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গুলি চালানো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনও প্রচেষ্টাও চালানো হয়নি এবং তাদের অবহেলামূলক আচরণের কারণে এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে।'
আইনের ভাষায় এই ধরনের অপরাধকে বলা হয় কাল্পেবল হোমিসাইড। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। গত নভেম্বরে সরকারবিরোধী ওই আন্দোলনে পুলিশ ও সেনার গুলিতে ৭৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২১ জন তরুণ।
বাংলাদেশে ২০২৪ এ কোটা বিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের অভিযানের রূপ নিলে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে ৫ অগস্টের মধ্যে ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ সরকার সরকারিভাবে ৮৪০ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
ওই হিংসার ঘটনা নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। গত বছর ১৭ নভেম্বর ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ট্রাইবুনাল তাদের রায় বলেছে, পুলিশ সহ রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ন সন্ত্রাসের ঘটনায় সরাসরি মদত ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এই দুজনকে যে যে কারণে ট্রাইবুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে তার অন্যতম হলো তারা হিংসাত্মক ঘটনা এবং নরহত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কর্তব্য পালন করেননি। নিষ্ক্রিয়তা সম্মতির লক্ষণ ছিল বলে ট্রাইবুনাল মনে করে।
নেপালে ওলি এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রে কি হতে পারে? নেপাল সরকার সূত্রে জানা যাচ্ছে এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সাজার বিষয়টিও বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করে গিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে হিংসাত্মক ঘটনা দমনে পুলিশের আক্রমণাত্মক ভূমিকা থামাতে প্রধানমন্ত্রী অলি এবং তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোন পদক্ষেপ করেননি। তাঁরা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। নেপালের আইনে এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজার ১০ বছরের কারাবাস।