তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় এসেই জানিয়েছিল কোন অর্ডিন্যান্সগুলি বহাল থাকবে তা সংসদের একটি কমিটি চূড়ান্ত করবে। সেই কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আওয়ামী লিগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করতে চেয়ে যে অর্ডিন্যান্স জারি হয়েছিল সেটি আইনে পরিণত করা হবে।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আওয়ামী লিগের (Bangladesh Awami League) কাজকর্ম নিষিদ্ধ করতে এবার আইন করতে উদ্যোগী হচ্ছে তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকার। গত বছর ১২ মে সন্ত্রাস দমন আইনে (Anti Terrorism Act) আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন মহম্মদ ইউনুসের অন্তবর্তী সরকার (interim government led by Md Yunus)।
নিয়ম অনুযায়ী এজন্য জারি হওয়া অর্ডিন্যান্সকে আইনে পরিণত না করলে সেটি বাতিল হয়ে যাবে। বাংলাদেশ সরকার সূর্যের খবর আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে তারেক রহমানের সরকার অর্ডিন্যান্সটিকে আইনি স্বীকৃতি দিতে চলেছে।
ইউনুস সরকার তাদের আঠারো মাসে ১৩৬টি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ১১ দিনের মধ্যে সেগুলি সংসদে প্রেস করার পর পর্যায়ক্রমে অনুমোদন দিতে হবে। নির্বাচিত সরকার সেগুলি অনুমোদন না করলে অর্ডিন্যান্স গুলি বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা।
তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় এসেই জানিয়েছিল কোন অর্ডিন্যান্সগুলি বহাল থাকবে তা সংসদের একটি কমিটি চূড়ান্ত করবে। সেই কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে আওয়ামী লিগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করতে চেয়ে যে অর্ডিন্যান্স জারি হয়েছিল সেটি আইনে পরিণত করা হবে।
এর অর্থ আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠছে না। শুধু তাই নয় আইনে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করার অপরাধে কঠোর হাজার বিধান রাখা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে কার্যক্রম চালালে ১০ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে এমন একটি বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে তারেক রহমানের সরকার।
২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনে সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল মহম্মদ ইউনুসের সরকার। তার আগে ২০২৪ এর অক্টোবরের নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগকে।
তারেক রহমানের সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কী বলছে আওয়ামী লিগ? দলের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য এই ব্যাপারে দলের সরকারি প্রতিক্রিয়া যথাসময়ে জানানো হবে। তবে যদিও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) বলেছেন, 'এক মাঘে শীত যায় না। যথাসময়ে আওয়ামী লিগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্য করবে। এখনো পর্যন্ত জলের সিদ্ধান্ত হলো তারা তারেক সরকারের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলবে। যদিও বাস্তবে আওয়ামী লিগের কোন আন্দোলন দেখা যাচ্ছে না। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লিগ নেতারা এক সুরে বলছেন আমাদের প্রস্তুতি চলছে। অল্পদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের মাঠে ময়দানে দল ঝাঁপিয়ে পড়বে।
যদিও নেতাদের এই কথায় তৃণমূল স্তরের কর্মীরা অত্যন্ত হতাশ ও বিরক্ত। তাদের বক্তব্য বারে বারে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সেগুলি সফল করার জন্য উপযুক্ত তৎপরতা নেতাদের তরফে দেখা যাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের পরও তারেক রহমানের সরকারেরও আওয়ামী লীগের প্রতি একই বিদ্বেষ মূলক মনোভাবের পেছনে দলের দুর্বলতাও একটি বড় কারণ বলে শেখ হাসিনার পার্টির বহু কর্মী এবং তৃণমূল স্তরের নেতারা মনে করছেন।