হাসিনা জমানার আরও এক সাবেক সেনা কর্তা আটক বাংলাদেশে। সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদকে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 26 March 2026 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আরও এক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে। তিনি শেখ মামুন খালেদ (Sheikh Mamun Khaled)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআইয়ের (DGFI) মহাপরিচালক বা ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনার সময়ে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকা এই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে দু দর্শক আগে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক (Caretaker government) সরকারের সময়ে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার জন্য। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলমান বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে।
প্রবীণ এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারকে গ্রেফতার করা হবে কিনা সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জিজ্ঞাসাবাদের পর এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিতর্কিত সেনা অফিসারদের ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। দিন পাঁচেক আগে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে (retd army officer Masud Uddin Choudhury) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মানব পাচারের একটি মামলায় বর্তমানে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (Bangladesh army) নবম ডিভিশনের জিওসি হিসাবে তখন কর্মরত ছিলেন তিনি। সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকার সময় তারেক রহমানসহ একাধিক নেতা-নেত্রীর উপর নিপীড়ন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান তিনজনকেই সেই সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই সিদ্ধান্তের পিছনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে খবর।
সেনা হেফাজতে তারেক রহমানের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাতেও আঙুল ওঠে এই অফিসারের দিকে।
সাবেক এই লেফট্যানেন্ট জেনারেলকে গ্রেফতারের পর চর্চা শুরু হয় এরপর কে? বুধবার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ শেখ মামুন খালেদকে তাঁর ঢাকার বাড়ি থেকে তুলে আনে।
বাংলাদেশ যেসব গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক চলছে তার মধ্যে ডিজিএফআই এবং র্যাব অন্যতম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, পরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও ডিজিএফআইয়ের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধীদের উপর নানাভাবে নির্যাতন গুম, হত্যা ইত্যাদির অভিযোগ ছিল। ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক করা হয়। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।