দিল্লির অনুষ্ঠানে প্রাক-রেকর্ডেড বার্তায় অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শেখ হাসিনার। পাঁচ দফা দাবি ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের আর্জি।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 24 January 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে নির্বাসনে থাকার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলে অন্তর্বর্তী বাংলাদেশ সরকারের (Bangladesh Goct) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। শুক্রবার প্রাক্-রেকর্ডেড অডিও বার্তায় তিনি বাংলাদেশের মানুষকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগ (Awami League) অংশ নিতে পারবে না। ঠিক এই প্রেক্ষিতেই দিল্লিতে সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ (Save Democracy in Bangladesh) শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তাঁর বার্তা শোনানো হয়।
ইউনুস সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা
ইউনুস প্রশাসনকে ‘অবৈধ’ ও ‘বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট’ বলে আক্রমণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশে কখনও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের অগস্টে তাঁর সরকারকে সরানোর পিছনে ছিল ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’।
পাঁচ দফা দাবি আওয়ামী লিগের
ভাষণে আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে রয়েছে—এক, ইউনুস সরকারের অপসারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। দুই, অবিলম্বে হিংসা ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। তিন, নারী, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় ‘লোহার মতো নিশ্চয়তা’ দিতে হবে। চার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও সাংবাদিকদের নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং পাঁচ, বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে।
রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের (United Nations) মাধ্যমে ‘নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবিও জানান শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, প্রতিহিংসা নয়, জাতীয় পুনর্মিলনই হওয়া উচিত দেশের লক্ষ্য।
নির্বাচনী রাজনীতিতে বার্তা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে আওয়ামি লিগকে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করলেন শেখ হাসিনা। কারণ, আসন্ন ভোটে বিএনপি-র (BNP) প্রাধান্য বাড়তে পারে, পাশাপাশি কট্টরপন্থী জামাত ই ইসলামিরও (Jamaat-e-Islami) উত্থানের আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে আওয়ামী লিগের বহু শীর্ষ নেতা ভারত ও ইউরোপে নির্বাসনে রয়েছেন। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার এই তীব্র ভাষণ বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।