দিল্লির সভা থেকে ইউনুসকে ‘দেশের শত্রু’ বলে তোপ দাগলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা বাংলাদেশই কার্যত জেলখানায় পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 23 January 2026 22:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহম্মদ ইউনুসকে দেশ ও জাতির শত্রু বলে তীব্র আক্রমণ শোনালেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন মোহাম্মদ ইউনুসই চক্রান্ত করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছেন। হাসিনার অভিযোগ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের সরকারের সময় গোটা বাংলাদেশই জেলখানায় পরিণত হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা মত শুক্রবার দিল্লিতে ফরেন কলেজ ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া আয়োজিত বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা চক্রে অনলাইনে সংযুক্ত হন শেখ হাসিনা। ২০২৪-এর ৫ অগস্ট থেকে দিল্লিতে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী। দেশ ছাড়ার কয়েক মাস পর থেকেই তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশবাসী এবং আওয়ামী লিগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছেন। হোয়াইটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালের মত একাধিক প্লাটফর্মে তিনি নিয়মিত দলের তৃণমূল স্তরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া আওয়ামী লিগের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠান দায়মুক্তিতে অংশ নেন শেখ হাসিনা। তবে কোথাও তিনি ক্যামেরার মুখোমুখি হননি। শুক্রবারের অনুষ্ঠানেও তাঁকে ক্যামেরার সামনে আসতে দেখা যায়নি। তবে এই প্রথম দিল্লির কোন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে দেশের দূরবস্থার কথা তুলে ধরলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
তবে লক্ষণীয় হলো হাসিনা যে ওই অনুষ্ঠানে অনলাইনে হাজির হলেন ভাষণে তা উল্লেখ করেননি। আগে থেকে রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো হয়েছে কিনা তাও স্পষ্ট হয়নি। আরও লক্ষণীয় হলো অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক এবং অন্য বক্তাদের উদ্দেশ্য নয়, হাসিনা ভাষণ শুরু করেন 'প্রিয় দেশবাসী আমি শেখ হাসিনা বলছি' বলে। মনে করা হচ্ছে কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতেই আওয়ামী লিগ নেত্রীকে এই কৌশল নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
দিল্লির অনুষ্ঠানটির আয়োজক ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রেসক্লাব। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, আমন্ত্রণপত্রে উদ্যোক্তারা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবারে অনুষ্ঠানেও তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসিনা সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা পরিচালক রোকেয়া প্রাচী। অনলাইনে সংযুক্ত হয়েছিলেন সাবেক আরো দুই মন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এবং আলি আরাফাত। সকলেই তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিযোগ করেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানবাধিকারকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আলাদা করে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন সব বক্তা। হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছে।
সরকারি ঘোষণা মত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়ার কথা। আওয়ামী লিগকে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। পাল্টা হাসিনা তার সমর্থক ও ভোটারদের বলেছেন নির্বাচন বয়কট করতে। এই সভায় হাসিনার ভাষণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কিনা তা নিয়ে কৌতুহল আছে। তবে ঢাকার কূটনৈতিক মহলের একাংশ দ্য ওয়ালকে জানিয়েছে, তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে বাড়তি গুরুত্ব নাও দিতে পারেন। বাংলাদেশ প্রশাসন মনে করছে নির্বাচনের সময় উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যে দিল্লির এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার এই ব্যাপারে আপত্তি তোলেনি। তবে বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, তাঁরা চান না সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে বসে বিবৃতি দিন।
শুক্রবার দিল্লির সভায় হাসিনা ভাষণে মহম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি নতুন সরকারের অধীনে নির্বাচন করার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে মহম্মদ ইউনুসকে এখনই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে। ইউনুসের সময়ে সংঘটিত হিংসা এবং অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের তদন্তে রাষ্ট্রসংঘের টিম পাঠানোর দাবি তোলেন আওয়ামী লিগ নেত্রী।