বিশিষ্টজনেরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাজার ভাঙা, গানের আয়োজন বন্ধ করাসহ সাধনার ধারার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতে তোলা হচ্ছে বাউল আবুল সরকারকে। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বাউল শিল্পী আবুল সরকারের গ্রেফতারি ও জেল হেফাজতের ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সেদেশে। আবুল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে উসকানি দেওয়ার অপরাধ করেছেন। যদিও তাঁর ভক্ত-শিষ্যদের দাবি, পালাগানের নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে বিভ্রান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিশিষ্টজনেরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাজার ভাঙা, গানের আয়োজন বন্ধ করাসহ সাধনার ধারার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বাউল আবুল সরকারের গ্রেফতারিকে ধিক্কার জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে চলতি তদারকি সরকারের কট্টর নীতির বিরুদ্ধে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় আড়াইশোর বেশি নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ছে। মৌলবাদীরা আবার দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই কট্টরবাদীদের একাংশ নিজেদের ইসলামের একমাত্র রক্ষক বলে মনে করছে। এই অংশ বারেবার জনআবেগকে উসকে দিচ্ছে। যাতে দেশে একটা নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হিংসার ধরনগুলি সন্দেহাতীতভাবে একটি ধর্ম-সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চলছে। প্রায় ২০০ মন্দির ধ্বংস, ব্যক্তিকে মুর্তাদ, কাফের অথবা শাতিম বলে ঘোষণা করে দেওয়া। ফসল নষ্ট বা পুড়িয়ে দেওয়া, বাউল-ফকিরদের জোর করে চুল কেটে দেওয়া, মহিলাদের হেনস্তা কিংবা পোশাক নির্বাচন করে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন নাচ, গান, নাটক, খেলা ও মেলা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
আসলে এই ধরনের চক্রান্ত চলছে একটি বিশেষ ধর্মকে এই দেশ থেকে বিলোপ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে এমন বহু শিক্ষাবিদ আছেন, যাঁরা হাসিনা সরকারের কাজকর্মেরও সমালোচক ছিলেন। যেমন- অধ্যাপক অনু মহম্মদ ও অধ্যাপক সালিমুল্লা খান। বিশিষ্টজনদের অভিযোগ, আইন রক্ষাকারীরাও এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে ব্যর্থ।
বিশিষ্টজনরা ছাড়াও আইন সহায়তার সমাজসেবী সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র পৃথক একটি বিবৃতি জারি করেছে। পাশাপাশি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আরও একটি বিবৃতি জারি করেছে। কবি ও সমাজকর্মী ফারহাদ মাজহার, যিনি ঢাকার প্রতিবাদসভায় হাজির ছিলেন, তিনি এই ঘটনাকে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, সরকারকে গ্রেফতার করা মানে আমায় গ্রেফতার করা। আমি এটা মেনে নেব না। প্রসঙ্গত মাজহারও শেখ হাসিনা আওয়ামি লিগের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন।
তদারকি সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকি একটি পোস্টে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি দেখছে। তবে এই ঘটনাকে তিনিও অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই হামলাকে নিন্দনীয় বলে ব্যাখ্যা করেন।