শুক্রবার ইদ-উল-আজহারের প্রাক সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (MD Yunus) জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইউনুস
শেষ আপডেট: 6 June 2025 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর শেষমেশ বাংলাদেশের (Bangladesh) জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে ঘোষণা করল অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার ইদ-উল-আজহারের প্রাক সন্ধেয় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (MD Yunus) জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে ভোট (Bangladesh Election) অনুষ্ঠিত হবে।
সব কিছু সময়ে চললে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস নাগাদ বিধানসভা ভোট হবে এবার বাংলা তথা পশ্চিমবঙ্গেও। ২০২১ সালে বাংলায় ৮ দফায় ভোট গ্রহণ হয়েছিল। ভোট নেওয়া শুরু হয়েছিল ২৭ মার্চ। শেষ দফার ভোট গ্রহণ হয়েছিল ২৯ এপ্রিল। এবারও কমবেশি সেই সময়েই ভোট হবে ধরে নিয়ে চলছে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট নিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতির বরাবরই নজর থাকে। তবে ছাব্বিশের এপ্রিল এবার আরও জমজমাট হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, শুধু বাংলার ভোট নয়, পশ্চিমবঙ্গের অনেক মানুষ এবং ভারতের নজর থাকবে বাংলাদেশের ভোটের দিকেও। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয় না বলে বাম জমানা থেকেই অভিযোগ রয়েছে। পড়শি বাংলাদেশও যে সেই সমস্যায় আক্রান্ত তা গত ভোটে দেখা গিয়েছে। সুতরাং এবার সেদিকেও নজর থাকবে সবার।
এদিন ইউনুস অবশ্য দাবি করেছেন, জাতীয় জীবনের সবচেয়ে মুক্ত, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই জন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। তাঁর কথায়, “ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান পরিবর্তনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে আজ দেশবাসীকে জানাচ্ছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন এপ্রিল ২০২৬–এর প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে।”
বিএনপির বিরোধিতা ও চাপ
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করানোর দাবি জানাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সম্প্রতি ঢাকাসহ একাধিক শহরে বৃহৎ সমাবেশ করেছে এবং তরুণদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্ব না করতে। তবে ইউনুস সে পথে না হেঁটে, এপ্রিল ২০২৬-এর সময়সীমা চূড়ান্ত করলেন।
জাপানে বক্তব্য ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে চিড়
গত সপ্তাহে জাপান সফরে গিয়ে মহম্মদ ইউনুস বলেছিলেন, নির্বাচন এ বছরের ডিসেম্বর ২০২৬–এর জুনের মধ্যে যেকোনও সময়ে হতে পারে। তখনই ধারণা পাওয়া গিয়েছিল, সরকার ডিসেম্বরের ডেডলাইন মানতে প্রস্তুত নয়।
২০২৪ সালের অগস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাসনের পর থেকে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে নির্বাচিত সরকার নেই। সেনা পরিবারের জন্য কল্যাণ প্রকল্প ও কর ছাড় সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র জনবিক্ষোভের মুখে হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন ও ভারতে আশ্রয় নেন।
তার পরই নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষপদে বসেন। তাঁর শাসনকালেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়—প্রথমে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনায়, পরে ইউনুসের ভারত-বিরোধী বক্তব্য নিয়ে।
এর পর কী?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আগামী মাসগুলিতে নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করবে বলে ইউনুস জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়বে। বিশেষত বিএনপি যদি এপ্রিলের সময়সীমা মেনে না নেয়, তাহলে আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশ আরও অস্থির হতে পারে।
সারকথা, ইউনুস সরকারের স্পষ্ট বার্তা—বিরোধীদের চাপের মুখে নয়, সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার গতির উপর নির্ভর করেই হবে আগামী ভোট।